১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ বছর ও ১৪০ ম্যাচ পর জয় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ দলের

২০০৪ সালের এপ্রিলের পর ফুটবলে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ছোট্ট দেশ সান মারিনো।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Sep 2024, 10:39 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হলো আরও আট মিনিট। চাপা উত্তেজনা নিয়ে সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকদের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। সময় যেন আর ফুরোয় না! অবশেষে শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠলেন ফুটবলাররা আর গ্যালারিতে তুমুল উল্লাসে ফেটে পড়লেন দর্শকেরা। কত কত দিনের অপেক্ষার অবসান, কত আরাধ্য একটি জয়!

‘আরাধ্য’ শব্দটি খেলাধুলায় ব্যবহৃত হয় অনেক। তবে এটির সত্যিকারের অর্থ সান মারিনোর ফুটবল অনুসারীদের চেয়ে ভালো বুঝি কেউ জানে না। এই জয়টির জন্য তাদেরকে অপেক্ষা করতে হলো ২০ বছরের বেশি!

উয়েফা নেশন্স লিগের সবচেয়ে তলানির ধাপ ‘ডি’ লিগের লড়াইয়ে লিখটেনস্টাইনকে ১-০ গোলে হারিয়ে বৃহস্পতিবার বহু কাঙ্ক্ষিত এই জয়টি পায় সান মারিনো।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ২১০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান সান মারিনোর। লিখটেনস্টাইনও খুব এগিয়ে নেই। তারা আছে ১৯৯তম স্থানে। 

ম্যাচ শেষে জয়ের হাসি, খুশির কান্না, সবার চোখেমুখে অবিশ্বাস মিলিয়ে আবেগময় আবহ তৈরি হয় মাঠে।

সান মারিনোর ফুটবল ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় জয় এটি। আগের জয়টিও ছিল লিখটেনস্টাইনের বিপক্ষেই, ২০০৪ সালের এপ্রিলে। এরপর ১৪০ ম্যাচ পেরিয়ে অবশেষে আরেকটি জয়ের স্বাদ পেল তারা। 

২০ বছর আগের সেই জয়টি ছিল প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সান মারিনোর জয় এটিই প্রথম! 

ইতালির ভেতরের ছোট্ট দেশটির সামগ্রিক ফুটবল রেকর্ড এখন এমন- ২ জয়, ১০ ড্র, ১৯৯টি পরাজয়। 

সান মারিনোর এবারের জয়ের নায়ক নিকো সেন্সোলি। দেশের সবশেষ জয়ের সময় তার জন্মই হয়নি। ১৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ম্যচের ৫৩তম মিনিটে গোল করে উত্তাল করে তোলেন গ্যালারি। সেই গোল শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে তার দল।

ফুটবল দলের জয়ে উৎসব বয়ে যায় গোটা সান মারিনোয়। স্রেফ চার ম্যাচ খেলা সেন্সোলি রাতারাতি হয়ে ওঠেন জাতীয় নায়ক। 

আয়তনের দিক থেকে বিশেববর পঞ্চম ক্ষুদ্রতম দেশ সান মারিনো। দেশটির জনসংখ্যা ৩৫ হাজারের একটু বেশি। সান মারিনো স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা সাড়ে ৬ হাজার। 

নেশন্স লিগের চারটি ধাপের মধ্যে তলানির ছয় দলকে নিয়ে গড়া হয় ‘ডি’ লিগ। দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে ছয় দলকে। সান মারিনো, লিখটেনস্টাইন ও জিব্রাল্টার জায়গা পেয়েছে গ্রুপ ‘ওয়ান’-এ, গ্রুপ ‘টু’-তে আছে অ্যান্ডোরা, মাল্টা ও মলদোভা।