মারাদোনাময় সেই ম্যাচের পর প্রথমবার আসতেকায় ইংল্যান্ড, পারবে ইতিহাস বদলে দিতে?
১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার বিতর্কিত ও জাদুকরী দুই গোলে আসতেকায় স্বপ্ন ভেঙেছিল ইংল্যান্ডের, সেই মাঠেই ৪০ বছর পর এবার তারা খেলবে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে।
চার দশক আগে মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামে সবশেষ কোনো প্রতিযোগিতা ম্যাচ খেলেছিল ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল তারা। সেই মাঠে এবার স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংলিশরা। এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে পুরনো হিসেব-নিকেশ কি চুকাতে পারবে ইংল্যান্ড? কোচ টমাস টুখেল সেসব আলোচনা উড়িয়ে বললেন, তারা রচনা করতে চান নতুন অধ্যায়।
বিখ্যাত আসতেকায় সবশেষ ইংল্যান্ড খেলেছিল ৪০ বছর আগে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে। সেই লড়াইয়ে দিয়েগো মারাদানোর জাদুকরী পারফরম্যান্সে হারে ইংলিশরা। দুটি কারণে মারাদোনাময় ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। সেদিনই বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ দুটি করেন মারাদোনা। পরে ওই আসরে শিরোপাও জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
সেই আসতেকায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সোমবার ৬টায় (এএম) মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগে ঘুরেফিরে আসছে এই মাঠে ইংলিশদের ওই হারের কথা। টুখেলের সংবাদ সম্মেলনেও উঠল সেই প্রসঙ্গ।
জার্মান এই কোচ বলেছেন, ওই সব কিছু নিয়েই ভাবছেন না তারা।
“আমরা এখানে কোনো প্রতিশোধ নিতে আসিনি। নিজেদের নতুন অধ্যায় লিখতে এসেছি। দলের সবাই দারুণ ফুরফুরে মেজাজে আছে এবং আমরা আগামীকালের লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
“আমরা এখন একটি ঐতিহাসিক জায়গায় আছি, ঐতিহাসিক এক স্টেডিয়াম আসতেকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলব। এটা একটি আইকনিক ম্যাচ এবং অনেক বড় মঞ্চ, যা আমরা সবাই অনুভব করতে পারছি।”
মেক্সিকোর এই স্টেডিয়ামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২০০ মিটার উঁচুতে। আর এই উচ্চতার কারণে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকায় খেলোয়াড়দের ওপর অনেক ধকল যায়। ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগে কন্ডিশন নিয়েও চলছে বেশ আলোচনা।
এখন মেক্সিকোয় আছে ইংল্যান্ড দল। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। ইংল্যান্ডের প্রথম অনুশীলন সেশনের সময় উচ্চতাজনিত প্রতিকূলতার কথা স্বীকার করেছেন টুখেল। তবে জোর দিয়ে বলেছেন, এটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবে না তার খেলোয়াড়রা।
“অনুশীলনের প্রথম কয়েক মিনিট খেলোয়াড়রা উচ্চতার প্রভাবটা টের পেয়েছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে তারা কন্ডিশনের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমাদের মেনে নিতেই হবে।
“আমি বৈরী পরিবেশ আশা করছি না। আমার মনে হয় পরিবেশটা বেশ আবেগপূর্ণ হবে এবং গ্যালারি স্বাগতিক দেশের সমর্থনে মুখর থাকবে। উচ্চতা কিংবা ঘরের মাঠের দর্শক- পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, তা আমাদের মেনে নিতে হবে।”
সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত মনে করছেন টুখেল।
“আমাদের বাধাগুলো পার হতে হবে। তবে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা জয় করার মতো মানসিকতা, প্রতিশ্রুতি, তীব্র ইচ্ছা এবং দলের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন প্রয়োজন, তা আমাদের রয়েছে।”
