২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯ বছরের পথচলার ইতি টানছেন বসনিয়ার কিংবদন্তি

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলছেন বসনিয়ার রেকর্ড গোলস্কোরার এদিন জেকো।

১৯ বছরের পথচলার ইতি টানছেন বসনিয়ার কিংবদন্তি
এদিন জেকো। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 06:55 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন এদিন জেকো। আগামী মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন দেশটির রেকর্ড গোলস্কোরার।

১১ নম্বর জার্সি পরা নিজের দুটি ছবিসহ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেন ৪০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। আগামী ২ অক্টোবর নেশন্স লিগে ঘরের মাঠে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ।

“আমার পুরো ক্যারিয়ারে কোনো কিছুই সেই গর্বের সঙ্গে তুলনীয় নয়, যা প্রতিবার এই জার্সিটি পরার সময় আমি অনুভব করেছি। এটা ছিল আমার ছোটবেলার স্বপ্ন, এমন একটি স্বপ্ন, যা আমার সঙ্গে বয়ে বেড়িয়েছি ১৫১ ম্যাচের প্রতিটিতে, যখন ফুটবল মাঠে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান পেয়েছি... তুরস্কের বিপক্ষে সেই ম্যাচের (অভিষেক) পর প্রায় ২০ বছর কেটে গেছে।

“অনেক কিছুই বদলে গেছে, আমিও বদলে গেছি, কিন্তু এই জার্সির প্রতি আমার ভালোবাসা কখনও বদলায়নি। এখন আমার মনে হচ্ছে, সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। জাতীয় দলের সঙ্গে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত টিকে থাকতে পারার কারণ হলো, আমার সর্বস্ব দিয়েছি। প্রতিবার। সবকিছু।”

আন্তর্জাতিক ফুটবলে জেকোর অভিষেক ২০০৭ সালের জুনে। বসনিয়ার জার্সিতে ১৫১টি ম্যাচে ৭৩টি গোল করেছেন তিনি; দুটিই দলটির হয়ে রেকর্ড।

দেশটিকে ২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করেন জেকো। সেই ঐতিহাসিক অর্জনকে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। 

“২০১৪ সালে আমাদের প্রথমবার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করাটা একজন ফুটবলার হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

এদিন জেকো। ছবি: রয়টার্স

এদিন জেকো

“ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার রাতে এবং তারপর ইতালির বিপক্ষে গোল করার সময় আমি যে আবেগ অনুভব করেছিলাম, তা চিরকাল আমার হৃদয়ে রয়ে যাবে। আমাদের শহরগুলোর রাস্তায় মানুষদের উল্লাস করতে দেখাটা ছিল ফুটবলের দেওয়া আরও একটি অবিশ্বাস্য উপহার।”

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের সেরাটা দিয়ে গেছেন জেকো। এই বছরের বিশ্বকাপে দলের শেষ বত্রিশে খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের মধ্যে জেকোর চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে খেলার নজির আছে কেবল লুকা মদ্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও রজার মিলার।

ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটি, রোমা ও ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপের প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের হয়ে খেলেছেন জেকো। বর্তমানে জার্মান ক্লাব শালকের হয়ে খেলছেন তিনি। 

অক্টোবরে নেশন্স লিগে সুইডেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে চলতি মাসের শেষ দিকে পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার মাঠেও খেলবে বসনিয়া।