Published : 15 May 2026, 08:30 PM
হতাশায় মোড়ানো আরেকটি মৌসুমে রেয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিং রুমে অসন্তোষের যে খবর বেরিয়েছে, সেটিই যেন স্পষ্ট হয়েছে কিলিয়ান এমবাপের এক মন্তব্যে। তাকে দলের চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় দাবি করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ফরাসি তারকা। এই অভিযোগ অবশ্য দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করেছেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। দুজনের এই সংঘাত নিয়ে এবার প্রশ্নের মুখে পড়লেন জোসে মরিনিয়ো, যিনি আগামী মৌসুমে মাদ্রিদের দলটির সম্ভাব্য কোচ হওয়ার দৌড়ে আছেন বলে গুঞ্জন চলছে।
লা লিগায় বৃহস্পতিবার রেয়াল ওবিয়েদোর বিপক্ষে দলের ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে ৬৯তম মিনিটে বদলি নামেন এমবাপে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মাঠে নামার পর রেয়ালেরই একটা অংশের সমর্থকরা দুয়ো দেয় ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে। আক্রমণভাগে এ দিন শুরুর একাদশে ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র, গন্সালো গার্সিয়া ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে রেয়ালের আগের দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি এমবাপে। যার মধ্যে একটি ছিল গত রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা জিতে নেয় কাতালান দলটি।
ওবিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচের পরই বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেন এমবাপে। তবে বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলারকে চতুর্থ পছন্দের ফরোয়ার্ড কিংবা এমন কিছু বলার কথা উড়িয়ে দেন কোচ আরবেলোয়া।
২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত যখন রেয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিয়ো, তখন তার কোচিংয়ে খেলেছিলেন আরবেলোয়া। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এমবাপে ও আরবেলোয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন বেনফিকা কোচ মরিনিয়ো।
“এটা কষ্ট দেয়। কারণ, ঠিকই বলেছেন, সে (আরবেলোয়া) আমার বন্ধু। যখন সে আমার খেলোয়াড় ছিল, তখন আমার জন্য সে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল, আর এখন সে রেয়াল মাদ্রিদের কোচ, সেই সম্পর্কটা এখনও রয়ে গেছে… অবশ্যই যখন সবকিছু ভালোভাবে চলে, নিজে একজন কোচ হওয়ায় তখন সেটা আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে। একজন কোচের জীবন এমনই।”
“আমি প্রায়ই আমার সাবেক খেলোয়াড়, যারা কোচ হয়েছে, তাদের সঙ্গে মজা করে বলি: ‘কয়েক বছর অপেক্ষা করো, দেখবে তোমার কতগুলো চুল পেকে যায়।’ এরপর তারা বুঝতে পারে যে, কোচ হওয়ার চেয়ে খেলোয়াড় হওয়া সহজ। সে ইতোমধ্যে যা অর্জন করেছে, তাতে আমি খুশি।”
পর্তুগিজ লিগ মৌসুমের শেষ ম্যাচে শনিবার এস্তোরিলের মুখোমুখি হবে বেনফিকা। মরিনিয়ো জানালেন, বেনফিকা থেকে তিনি চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার পরই শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ। রেয়ালের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রস্তাব পাননি বলেও আবার জানান তিনি।