১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শক্তিশালী আজারবাইজানের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

টানা দুই হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল পিটার জেমস বাটলারের দল।

শক্তিশালী আজারবাইজানের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ
মারিয়া মান্দার (বাঁয়ে) সমতা ফেরানো গোলের এই উচ্ছ্বাস শেষ পর্যন্ত টেকেনি। ছবি: বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Dec 2025, 09:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

শীতের সন্ধ্যায় পূর্ব দিকের গ্যালারি অনেকটাই ভরে গেল। ম্যাচ জুড়ে ঋতুপর্ণা-মনিকাদের জন্য গলা ফাটালেন তারা। শুরুতে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াল মারিয়া মান্দার দৃষ্টিনন্দন গোলে। একটা পর্যায়ে ড্রয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছিল দল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো সমর্থকদের। 

ঢাকায় জাতীয় স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে আজারবাইজানের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। 

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকা আজারবাইজানকে লিড এনে দেন জাফরজাদা সেভিনি। প্রথমার্ধেই সমতা ফেরান মারিয়া মান্দা। শেষ দিকে ম্যাচের নির্ণায়ক গোলটি করেন মানিয়া ইসরা। 

ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সিরিজে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল দল। সব মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেল পিটার জেমস বাটলারের দল। 

আর মালয়েশিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে আসা আজারবাইজান টানা দুই জয়ে হলো সিরিজের সেরা।

শারীরিক শক্তি ও কৌশলে এগিয়ে থাকা আজারবাইজানকে শুরু থেকে চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকে বাংলাদেশ। ষোড়শ মিনিটে সেভিনির ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে ফেরান রূপনা। তিন মিনিট পর সতীর্থের ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন সেভিনি। লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি রূপনা। 

সেভিনির গোলের উদযাপনে ছিল ভিন্ন এক আবেগ। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মায়ের ছবি সংবলিত জার্সি মেলে ধরেন তিনি। সেখানে লেখা ছিল ‘মা কখনও মরে না। তুমি সবসময় আমরা হৃদয়ে আছো।”

৩২তম মিনিটে দারুণ সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। ঋতুপর্ণা চাকমার থ্রু পাস ধরে মনিকা চাকমা শটও নিয়েছিলেন, গোলকিপার দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পথ আগলে দাঁড়ান, বল তার গায়ে লাগে। 

পরের মিনিটেই মারিয়ার চোখ জুড়ানো গোলে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। স্বপ্না রানীর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল গোলরক্ষক ফিস্ট করার পর বক্সের ভেতরেই পেয়ে যান মারিয়া। দুটি উইমেন’স সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডারের শট বাতাসে ভেসে ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে খুঁজে নেয় জাল। গোলরক্ষক প্রতিরোধের সুযোগই পাননি।

রূপনার ক্ষিপ্রতায় ৩৮তম মিনিটে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। সতীর্থের পাস হেডে বের করে নিয়েছিলেন ইসরা। তবে আজারবাইজানের এই মিডফিল্ডার শট নেওয়ার আগেই ছুটে এসে বল গ্লাভসে জমান রূপনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ঋতুপর্নার ক্রসে মনিকার হেড পোস্টের বাইরে যায়। ৬০তম মিনিটে তালগোল পাকাতে বসেছিলেন রূপনা। লং থ্রো গ্লাভসে জমাতে পারেনি, দ্রুত ক্লিয়ার করেন শিউলি আজিম।

৬৭তম মিনিটে দুটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে তুলে নামান উমহেলা মারমা ও সুলতানাকে। একটু পরই গোলমুখ থেকে আবার বল ক্লিয়ার করেন শিউলি।

শারীরিক গড়নে লম্বা আজারবাইজানের খেলোয়াড়েরা সেট-পিস কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে থাকে। ৭৪তম মিনিটে টানা দুটি কর্নার ফেরান রূপনা। তৃতীয় কর্নারে মিরাজরিয়াভা নিগারের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।

৮৩তম মিনিটে আর দলকে সমতায় রাখতে পারেননি রূপনা। সতীর্থের আড়াআড়ি ক্রসে ইসরার নেওয়া প্লেসিং শট বলের লাইনে ঝাঁপিয়েও ফেরাতে পারেননি গোলরক্ষক। 

এক যুগেরও বেশি সময় পর জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেরার সিরিজ বাংলাদেশ শেষ করল হার দিয়ে।