২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কোচ রোনালদোর পথ অনুসরণ করতে বললেও মানেননি আজার

ফুটবলকে জীবনের সবকিছু না ভেবে ব্যক্তিগত হাসি-আনন্দকেও প্রাধান্য দিয়েছিলেন বেলজিয়ান তারকা।

কোচ রোনালদোর পথ অনুসরণ করতে বললেও মানেননি আজার
এদেন আজার। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Feb 2026, 09:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

চেলসির জার্সিতে তারকা ফুটবলার হয়ে উঠলেও, রেয়াল মাদ্রিদে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন এদেন আজার। আগেভাগে ক্যারিয়ারের ইতিও টেনে দেন তিনি। অনেকদিন পর ক্যারিয়ারে পেছন ফিরে তাকালেন বেলজিয়ান তারকা। বললেন, কোচ মাওরিসিও সাররি তাকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পথ অনুসরণ করতে বলেছিলেন, যা মানেননি তিনি।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে লিওনেল মেসির সঙ্গে সেরা দুই ফুটবলারের একজন হয়ে থেকেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ব্যক্তিগত ও দলগত পর্যায়ে তিনি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকের চোখে মেসি ইশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা আর রোনালদো নিরলস প্রচেষ্টা, পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ে নিজেকে তৈরি করেছেন।

রোনালদো যেখানে বছরের পর বছরের ধরে কঠিন নিয়ম-শৃঙ্খলায় নিজেকে আটকে রেখেছেন, ফুটবলই যার প্রতিদিনের ধ্যান-জ্ঞান, সেই তুলনায় আজারের জীবনের ভাবনা ভিন্ন। কেবল ফুটবলের মাঝেই কখনও তিনি জীবনকে আটকে রাখতে চাননি। মাঠে ও মাঠের বাইরে সবসময় নিজের মতো করেই চলেছেন সাবেক এই ফরোয়ার্ড। 

ক্যারিয়ারে সেরা সময় আজার কাটিয়েছিলেন চেলসিতে। ইংলিশ ক্লাবটিতে দুটি প্রিমিয়ার লিগ ছাড়াও তিনি জিতেছিলেন আরও কয়েকটি শিরোপা। সেখানে তিনি শেষ মৌসুমে খেলেন সাররির কোচিংয়ে। এই ইতালিয়ান কোচ তাকে পর্তুগিজ মহাতারকার অধ্যাবসায় আর কঠিন পরিশ্রমের পথ অনুসরণে করতে বলেছিলেন।

লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করলেন আজার।

“হ্যাঁ (তিনি এটাই বলেছিলেন), কিন্তু আমি তাকে বলেছিলাম, আমি এভাবে চাই না। আমি কখনোই অতিরিক্ত কিছু করতে চাইনি, মাঠে ও মাঠের বাইরে আমি সবসময় আজারই হতে চেয়েছি।”

“আমার বন্ধুরা আমাকে ডিনারের দাওয়াত দিলে আমি না করতাম না এবং আমার যদি পান করতে ইচ্ছা করত, আমি করতাম। ক্রিস্তিয়ানো ক্রিস্তিয়ানো, আমি আজার। আমি নিজের মতো হতে এবং ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম।”

২০১৯ সালে চেলসি ছেড়ে বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন আজার, যে ক্লাবে তার খেলার ইচ্ছা ছিল প্রবল। তার কাছে মাদ্রিদের দলটির সমর্থকদের চাওয়া ছিল অনেক। কিন্তু কারো প্রত্যাশায় পূরণ হয়নি। 

বারবার চোটের ছোবল আর ছন্দহীন পারফরম্যান্সে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশাজনক চারটি বছর কাটিয়ে, ২০২৩ সালের জুনে পারস্পরিক সমঝোতায় রেয়াল ছাড়েন আজার। এর কয়েক মাস পরেই ফুটবলকেই বিদায় বলে দেন তিনি।

সাররির কথা শুনলে হয়তো ক্যারিয়ারে গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো আজারের; যদিও সেসব নিয়ে কোনো আফসোস নেই তার।