Published : 29 Oct 2025, 07:11 PM
ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন প্রথমবার। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াকে ‘শৈশবের স্বপ্ন পূরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ভাস্কো দা গামার রাইট-ব্যাক পাওলো এইহিক।
২৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার সাম্প্রতিক সময়ের দারুণ পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। এবার কার্লো আনচেলত্তির দলে জায়গা পেয়েছেন চোট পাওয়া ওয়েজলির বদলি হিসেবে।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এইহিক।
“এ যেন স্বপ্ন পূরণের মতো, শৈশবের কোনো স্বপ্ন। আমার পুরো পরিবারের জন্য, যারা আমাকে অনুসরণ করে তাদের জন্য, আমার বন্ধুদের জন্য, যারা আমার সঙ্গে এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিল তাদের সবার জন্য। আমি ভীষণ খুশি, কিন্তু একই সঙ্গে ক্লান্তও কারণ, সবকিছু খুব দ্রুত ঘটেছে, ভ্রমণটাও ছিল দীর্ঘ। তবুও, ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার আনন্দের চেয়ে বড় কিছু নেই।”
এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ৯ দিনের ছুটির আশায় ছিলেন এইহিক। সান্তা কাতারিনায় স্ত্রীর স্বজনদের সঙ্গে সময়টা কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে বিমান নামা মাত্রই বেজে ওঠে তার মোবাইল ফোন। খবর পান, ব্যাগ গুছিয়ে ছুটতে হবে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে। স্মৃতিচারণ করলেন সেই সময়ের।
“আমরা ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার পর বিরতি এলো (ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি)। তাই আমি আমি দুদিনের ছুটি নিয়ে সোজা বিমানবন্দরে যাই এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে সান্তা কাতারিনার উদ্দেশে যাত্রা করি। বিমান নামতেই ফোন আসে, ডাক পেয়েছি আর সেই মুহূর্তটা ছিল ভীষণ আনন্দের।”
বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিতে নজর রেখে আগামী শুক্রবার সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, মঙ্গলবার টোকিয়োতে খেলবে জাপানের বিপক্ষে। ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার জানালেন, নিজের সামর্থ্য দেখাতে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন তিনি।
“এটা অসাধারণ একটা সুযোগ। খেলার সুযোগ পেলে সম্ভাব্য সেরা উপায়ে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। প্রতিপক্ষ দলগুলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করব, তাদের খেলার ধরন বোঝার চেষ্টা করব, তাদের কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আমাদের স্টাফরাও দারুণ সহযোগিতা করছে। এই সময়টা আমি খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু শিখতে চাই।”
আনচেলত্তির কোচিংয়ে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকার কথা বললেন এইহিক।
“তিনি যা অর্জন করেছেন, তাতে প্রত্যাশা বিপুল। তিনি অভিজ্ঞতায় পূর্ণ এবং একজন দুর্দান্ত কোচ। তিনি রেয়াল মাদ্রিদকে কোচিং করিয়েছেন এবং পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এমনিতেই জেতেননি। তিনি আমাকে বলেছেন কী চান, কীভাবে খেলতে হবে। আনচেলত্তিার মতো অসাধাণ কোচের সঙ্গে কাজ করা ভীষণ আনন্দের।