১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দাদার উৎসাহে আলজেরিয়ার হয়ে খেলছেন জিদানের ছেলে

বয়সভিত্তিক দলে ফ্রান্সের হয়ে খেললেও এখন আলজেরিয়ার পোস্ট সামলাচ্ছেন এই গোলরক্ষক।

দাদার উৎসাহে আলজেরিয়ার হয়ে খেলছেন জিদানের ছেলে
ফরাসি গ্রেট জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Dec 2025, 08:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:24 PM

ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী প্লেমেকার জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান এখন খেলছেন আলজেরিয়ার হয়ে। ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক বলেছেন, দাদা ইসমাইল জিদানের উৎসাহে আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য আফ্রিকার দেশটিকে বেছে নিয়েছেন তিনি।

অনেকেই ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে দেখেন জিনেদিন জিদানকে। ১৯৯৮ সালে দেশটির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। প্যারিসের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পথে তিনি করেন জোড়া গোল। পরে ২০০০ সালে জেতেন ইউরো শিরোপা। সেই ডাবল আর ছুঁতে পারেনি ফ্রান্স।

মহাতারকা বাবার সঙ্গে তুলনা এড়াতে কম বয়সেই গোলরক্ষক হিসেবে খেলতে শুরু করেন লুকা। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন ফ্রান্সের। তবে ২৭ বছর বয়সে এসে চমকে দিয়ে দাদার জন্মভূমি আলজেরিয়াকে বেছে নেন তিনি। 

দ্রুতই আলজেরিয়ার প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। গত বুধবার আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে অভিষেক হয়েছে লুকার। ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুদানের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে আলজেরিয়া। মাঠে বসে ছেলের খেলা দেখেছেন জিনেদিন জিদান। 

ম্যাচে খুব একটা পরীক্ষায় পড়তে হয়নি লুকার। তবে স্কোরলাইন ১-০ থাকা অবস্থায় দারুণ এক সেভ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে ফ্রান্স ছেড়ে আলজেরিয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। 

“যখন আমি আলজেরিয়ার কথা ভাবি, আমার দাদার কথা মনে পড়ে। শিশুকাল থেকেই আমাদের পরিবারে এই আলজেরিয়ান সংস্কৃতি ছিল।”

“জাতীয় দলে খেলার আগে আমি উনার সঙ্গে কথা বলেছি। এই পদক্ষেপের ব্যাপারে তিনি ভীষণ খুশি ছিলেন। যখনই আমি জাতীয় দলে ডাক পাই, উনি আমাকে কল করেন, বলেন আমি খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তিনি আমাকে নিয়ে গর্বিত।”

ফ্রান্স ছেড়ে আলজেরিয়ার হয়ে লুকার খেলার সিদ্ধান্তে সমর্থন ছিল জিনেদিন জিদানেরও। 

“তিনিও আমাকে সমর্থন করেছেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘এটা তোমার পছন্দ। আমি তোমাকে পরামর্শ দিতে পারি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।’ কোচ ও ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট যখন আমার কাছে এলেন, এটা পরিষ্কার ছিল যে আমি নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”  

“এরপর আমি স্বাভাবিকভাবেই আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। আর তারা সবাই আমার জন্য খুশি ছিল।”

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড দেখেন জিনেজিদ জিদান। সেবার জার্মানিতে ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স। জিদান ২০০২ সালে রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১৯৯৮ সালে জেতেন ব্যালন দ’র। 

রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা লুকা এখন খেলছেন গ্রানাদার হয়ে। ক্লাব ফুটবলে জার্সিতে সবসময় তার নাম লেখা থাকে লুকা, তবে আলজেরিয়ার জার্সিতে তিনি বেছে নিয়েছেন জিদান নাম।