২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শুধু আর্থিক শাস্তিই যথেষ্ট নয় ম্যানচেস্টার সিটির জন্য’

আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ম্যানচেস্টার সিটির আরও কঠোর শাস্তি প্রাপ্য বলে মনে করেন ক্লাবটির সাবেক চেয়ারম্যান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 12:16 PM

Updated : 27 Sep 2026, 12:15 PM

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ক্লাবটি দোষী সাব্যস্ত হলে ম্যানচেস্টার সিটির শুধু আর্থিক শাস্তিই যথেষ্ট নয় বলে ক্লাবটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টাইন। তার মতে, আরও কঠোর শাস্তি প্রাপ্য ক্লাবটির।

প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে সিটির এই আইনি লড়াই চলছে দীর্ঘদিন ধরে এবং আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অধিকাংশ অভিযোগেই সিটি দোষী সাব্যস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় অস্বীকার করেনি সিটি এবং বলেছে যে প্রক্রিয়াটি “এখনও চলমান।”

প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ইএসপিএনকে জানিয়েছে যে, “ব্যক্তিগত ও গোপনীয় প্রক্রিয়া” নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না তারা।

এই অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ মৌসুমের, যে সময়ের পর থেকে সিটি অনেক বড় শিরোপা জিতেছে। তারা আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সিটির চেয়ারম্যান থাকা বার্নস্টাইন এক অনুষ্ঠানে বললেন, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত।

“আমার খুবই খারাপ লাগছিল, সত্যি বলতে গতকাল আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সিটি এবং এফএ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনের কারণেই আপনারা আমাকে এই অনুষ্ঠানে ডেকেছেন, কিন্তু মূলত আমি ম্যানচেস্টার সিটির একজন ভক্ত এবং ৭০ বছর ধরে এই দলের সমর্থক।

যখন আমি চেয়ারম্যান ছিলাম, আমার মনে হয় আমি ক্লাবকে একটি খুব কঠিন সময় থেকে বের করে আনতে এবং আরও ভালো কিছুর পথে যাত্রা শুরু করতে সাহায্য করেছিলাম। কিন্তু এই সবকিছুকে এভাবে কলঙ্কিত হতে দেখাটা খুবই দুঃখজনক, বিশেষ করে ক্লাবের সেই চমৎকার সমর্থকদের জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে, যারা ভালো-মন্দ সব সময়েই ক্লাবের পাশে থেকেছেন। আমার মনে হয়, ম্যানচেস্টারের নীল জার্সিধারী সমর্থকদের জন্য এটি একটি খুবই খারাপ দিন।”

সঠিক শাস্তি কী হতে পারে জানতে চাইলে বার্নস্টাইন বলেন, দোষ প্রমাণ হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হওয়া উচিত।

“প্রথমত, আমি মনে করি এর সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে। তাই এখন আপিল প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে কারণ... ক্লাবটি এই কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে খেলছে এবং এটা কোনোভাবেই টেকসই নয়।

আপিল প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে পারে না। আমি মনে করি এটা একটা বিপর্যয় হবে। শুধু এই নির্দিষ্ট মামলার জন্য নয়, বরং সাধারণভাবে ইংলিশ ফুটবলের জন্যও। সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি শাস্তির বিষয়ে কোনো মতামত দিতে পারি না। আপিলের পর যদি তারা ১১৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে আমার প্রিয় ক্লাবকে একটি অত্যন্ত কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমি শুধু এটুকুই বলব যে, শুধু অর্থই যথেষ্ট হবে না, দুর্ভাগ্যবশত, এর চেয়েও কঠোর কিছু করতে হবে।”

সংস্কৃতি সচিব লিসা ন্যান্ডি এই ঘটনাটিকে ফুটবল ভক্তদের জন্য ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।

“আমার মনে হয়, বেশিরভাগ ফুটবল ভক্তই অনুভব করছেন যে সামগ্রিকভাবে ফুটবলের জন্য এটি একটি ভালো মুহূর্ত নয় এবং আমার ধারণা, এরপর কী ঘটবে তা নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ভক্তরা খুব উদ্বিগ্ন বোধ করছেন। আপনারা জানেন যে এটি একটি অত্যন্ত দীর্ঘদিনের তদন্ত, যার সূত্রপাত ২০০৯ সালে শুরু হওয়া অভিযোগ থেকে। তদন্ত এখনও অনেকটা পথ বাকি, ম্যানচেস্টার সিটি এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করছে।

ফুটবল ভক্তদের এটা জানা দরকার যে, নিয়মগুলো ন্যায্যভাবে ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলো সমুন্নত রাখা হচ্ছে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের এখনও অনেক পথ যেতে হবে, এটি ফুটবল ভক্তদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক এবং আমি আশা করি যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করা যাবে।”

প্রক্রিয়াটির দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলেন ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিষয়ক ছায়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাইজেল হাডলস্টনও।

“পরবর্তী পদক্ষেপ যা-ই হোক না কেন, তা অবশ্যই আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় ইংলিশ ফুটবলের সুনাম ও মর্যাদার আরও ক্ষতি হওয়ার এবং লাখ লাখ ফুটবল ভক্তের জন্য আরও অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগের ঝুঁকি থাকবে।”