২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়েই অনুশীলনে হামজা

ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় পৌঁছেই সতীর্থদের সাথে হংকং চায়নার বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতিতে ঘাম ঝরিয়েছেন হামজা চৌধুরী।

ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়েই অনুশীলনে হামজা
সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ঢাকায় পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনুশীলনে নেমে পড়েন হামজা চৌধুরী। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2025, 07:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

ইংল্যান্ড থেকে সিলেট, এরপর সিলেট থেকে ঢাকা। লম্বা ভ্রমণ শেষে সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে ওঠেন টিম হোটেলে। পরে বিকাল পাঁচটার অনুশীলনে হাজির হামজা চৌধুরী। চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনো ছাপ নেই, বেশ প্রাণবন্ত ভাব! বরাবরের মতো হাসিখুশি দেখা গেল লেস্টার সিটির এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে।

ভ্রমণের ক্লান্তি বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার হামজাকে অনুশীলনে নামানোর ক্ষেত্রে একটু দোটানা ছিল কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। তবে দলের সূত্রের খবর, হামজা নাকি নিজেই চেয়েছেন সতীর্থদের সাথে প্রস্তুতি নিতে। কারণটাও পরিষ্কার, সবকিছু গুছিয়ে নিতে খুব বেশি সময় যে নেই হাতে। এশিয়ান কাপের তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ে হংকং চায়নার বিপক্ষে ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সি’ গ্রুপের টেবিলে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠের আসছে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’। কেননা, এই ম্যাচে হারলে বাছাই পেরুনোর স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাবে অনেকটাই। দুলতে থাকা স্বপ্নে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে ম্যাচটি জিততে মরিয়া বাংলাদেশ।

একই চাওয়া হামজারও। বাছাইয়ে এখনও তিনি জয়ের স্বাদ পাননি। গত মার্চে শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে ড্র ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষিক্ত এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সিঙ্গাপুর ম্যাচে পান হারের তেতো স্বাদ। টিম হোটেলে উঠে ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের পাশে নিয়ে জয়ের ঠিকানায় পা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

“নিরাপদে এসে পড়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা সফলকাম হবো। ৯ তারিখে আমরা হংকংয়ের বিপক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলব। ইনশাল্লাহ, সবাই আমাদের সমর্থন দিবেন।”

এদিনের প্রস্তুতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ১৫ মিনিট বরাদ্দ রেখেছিলেন কাবরেরা। প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেনি কেউ। অল্প সময়ের দেখায় আভাস মিলল, হামজা যেন আগের চেয়ে আরও নিবিড়ভাবে দলের সাথে একাত্ম হয়ে উঠেছেন।

মাঠের এক কোণে কাজী তারিক রায়হান, জামাল ভূঁইয়া, ফাহামিদুল ইসলামের সাথে জাগলিং করছিলেন হামজা। পাসিং অনুশীলনে কেউ বল হারালে তার পিঠে অলতো করে ‘চড়’ দেওয়ার রেওয়াজ এদিনও ছিল। ফাহামিদুল মিস করলেন, জামাল-হামজাসহ বাকিদের দেখা গেল হাসতে হাসতে ‘জুনিয়র’-এর পিঠে-মাথায় আলতো করে ‘চড়’ দিতে। এক-দুবার জামাল, তারিকের মতো তিনিও তা খেলেন হাসিমুখে!

অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মনের মুখে অবশ্য চেনা হাসির দেখা মেলেনি। চোটের হানায় এরই মধ্যে দলছুট হয়েছেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা ও উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তারিক, আল আমিন রোববার প্রস্তুতি নিয়ে কোচের দুঃশ্চিন্তা কিছুটা দূর করেছেন। 

তপুকে নিয়ে অবশ্য অনিশ্চয়তা কাটেনি পুরোপুরি। দেখা গেল, সতীর্থরা যখন মাঝমাঠে জাগলিং-পাসিংয়ে ব্যস্ত, তখন ৩০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার মাঠের চারপাশে চক্কর দিচ্ছেন এক টিম স্টাফের সাথে। 

দলে নতুন মুখ জায়ান আহমেদকেও দেখা গেল বেশ উৎফুল্ল। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই তরুণ মিডফিল্ডার যে আক্রমণভাগে বলের জোগান দিতে বেশ পারদর্শী, তার ছাপ রাখলেন কিছু নিখুঁত ক্রস ও আড়াআড়ি পাস বাড়িয়ে। 

ইতালি প্রবাসী ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল বরাবরই আমুদে প্রকৃতির। এদিনের অনুশীলনেও সতীর্থদের সাথে এই তরুণকে দেখা গেল মাঝেমধ্যে খুনসুঁটি করতে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতির পরতে পরতে প্রাণোচ্ছল এক বাংলাদেশ দলের প্রতিচ্ছবিই উঠল ফুটে।