Published : 07 Feb 2026, 07:33 PM
রাউন্ড রবিন লিগের আগ্রাসী আলপি-তৃষ্ণাদের দেখা মিলল না। অপির্তা-জয়নবদের রক্ষণের দৃঢ়তাও হয়ে গেল উধাও। গোলকিপারকে একা পেয়ে বাইরে মারলেন তৃষ্ণা রানী। পোস্টে ইয়ারজান বেগম করলেন অভাবনীয় ভুল। সব মিলিয়ে অনেক ভুলের চড়া মাশুল গুনে সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হারল বাংলাদেশ।
পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শনিবার শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারায় ভারত। রাউন্ড রবিন লিগের ২-০ ব্যবধানের হারের মধুর প্রতিশোধ তারা নিল ফাইনালের মঞ্চে।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এবারই প্রথম ভারত এককভাবে এ ট্রফি জিতল। এর আগে দুই আসরে দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের সেই আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরির আসর এই প্রথম আয়োজন করল নেপাল। হিমালয়ের দেশ থেকে ট্রফি নিয়ে ফিরতে উন্মুখ ছিলেন অপির্তা-আলপিরা। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের জাল অক্ষত রেখে, প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোলের উৎসব তিন জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল দলের সঙ্গী। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুটা হয় সাবধানী। রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশের কাছে একমাত্র হারের তেতো স্বাদ পাওয়া ভারতও ছিল সতর্ক। তাই জমে ওঠেনি ঢিমে তালে শুরু হওয়া ম্যাচ।
দ্বিতীয় মিনিটে ভারতের ফরোয়ার্ড বলের নাগাল পাওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে জোরাল শটে সম্ভাব্য বিপদ থেকে দলকে মুক্ত করেন ইয়ারজান।
ষোড়শ মিনিটে বলের নিয়ণ্ত্রণ নিতে গিয়ে আলবা দেবির সঙ্গে বক্সের বাইরে সংঘষ্ঠ হয় সুরভি আক্তার আফরিনের। আভিস্তা বাসনেতের ফ্রি কিক সরাসরি যায় ইয়ারজানের কাছে।
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে প্রাণ ফিরে ৪২তম মিনিটে। বাম দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে পারেননি এতক্ষণ রক্ষণ জমাট রাখা অর্পিতা-জয়নব-সুরভিরা। দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা প্রীতিকা বর্মন বল পেয়ে যান, কিন্তু তিনি নিজে শট না নিয়ে বাড়িয়ে দেন ঝুলান নঙ্গমাইথেমকে, সহজেই ইয়ারজানকে পরাস্ত করেন ভারত অধিনায়ক।
চলতি আসরে এই প্রথম গোল হজম করল বাংলাদেশ। পিছিয়ে থাকার অস্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গেল দল। বিরতি থেকে ফিরে সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৫২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও যান তৃষ্ণা। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পান তিনি, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বাইরে মারেন। এমন সুযোগ নষ্ট করে নিজের প্রতি অবিশ্বাসে মাথায় হাত দিয়ে বক্সেই বসে পড়েন তৃষ্ণা।
বাংলাদেশের পথচলা আরও কঠিন হয়ে যায় ৬২তম মিনিটে এলিজাবেথ লাকরার সফল স্পট কিকে। আক্রমণ ক্লিয়ার করতে ইয়ারজান পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও বলের নাগাল পাননি। এরপর আলভা দেবি বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাওয়ার সময় প্রতিমা মুন্দার আলতো স্পর্শে বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
৬৮তম মিনিটের গোলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। অর্পিতার ব্যাক পাস ক্লিয়ার করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন ইয়ারজান, কিন্তু তিনি করেন সময়ক্ষেপণ। পার্ল ফার্নান্দেসকে ছুটে আসতে থেকে পড়িমরি করে শট নেন ইয়ারজান, কিন্তু বল লাগে পার্লের গায়ে। সুযোগে পাওয়া বল আলতো টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
৮৩তম মিনিটে সতীর্থের কাটব্যাকে আনভিতা কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করলে নেপাল থেকে শিরোপা নিয়ে দেশের ফেরার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় পিটার জেমস বাটলারের দলের।
দলীয় লক্ষ্য পূরণ না হলেও এই আসরে ব্যক্তিগত সাফল্য মুঠোভরে পেয়েছে বাংলাদেশ। আলপি আক্তার সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭টি) হওয়ার পাশাপাশি জিতে নিয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। সেরা গোলকিপার হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুন্নি।