Published : 11 Jul 2025, 04:08 PM
এক বছর আগের কথা। বাছাইপর্বে হেরে উইম্বলডনের মূলপর্বে উঠতে না পারার হতাশা ভুলতে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন অ্যামান্ডা অ্যানিসিমোভা। বছর ঘুরতে সেই তিনি এখন এই গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালিস্ট। নতুন মোড় নেওয়া ক্যারিয়ারে এভাবে ফাইনালে উঠতে পারবেন, যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় বৃহস্পতিবার বড় চমক উপহার দেন অ্যানিসিমোভা। সেমি-ফাইনালে তিনি হারিয়ে দেন তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ও মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কাকে।
এই বছরে আগের দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে খেলা সাবালেঙ্কা এখানেও ছিলেন পরিষ্কার ফেভারিট। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ালেও তরুণ প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারেননি বেলারুশের ২৭ বছর বয়সী তারকা।
সেন্টার কোর্টে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ গেমে জিতে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠেন অ্যানিসিমোভা। ২০০৪ সালে সেরেনা উইলিয়ামসের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম বয়সী নারী খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
শিরোপার মঞ্চে উঠে যেন অবিশ্বাসের ঘোরে আছেন অ্যানিসিমোভা।
“সত্যি বলতে, (আগে) যদি আমাকে বলতেন যে, আমি উইম্বলডনের ফাইনালে উঠব, আমি বিশ্বাস করতাম না। বিশেষ করে এত তাড়াতাড়ি তো নয়ই। এক বছরের ঘুরে দাঁড়ানো। সত্যি বলতে, ফাইনালে থাকতে পারা স্রেফ অবিশ্বাস্য।”
গত বছর উইম্বলডনের বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে হেরেছিলেন অ্যানিসিমোভা। তখন র্যাঙ্কিংয়ে তিনি ছিলেন ১৯১ নম্বরে।
“প্রতিবার যখন আমি গ্র্যান্ড স্ল্যাম বা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ি, আমি কয়েকদিন বিরতি নিই। আমার ফোন বন্ধ রাখি না, তবে সত্যি বলতে (কী ঘটছে) তা অনুসরণ করি না।”
“আমি কেবল বিশ্রাম নিতে ও আমার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করি। (গত বছর) এটাই করছিলাম।”
টেনিসের উন্মুক্ত যুগে অ্যানিসিমোভা দ্বিতীয় খেলোয়াড়, যিনি মেয়েদের কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের এককে আগের বছর বাছাইপর্বে হেরে পরের বছর ফাইনালে উঠেছেন। অন্যজন কানাডার বিয়াঙ্কা আন্দ্রেয়েস্কো, যিনি ২০১৯ সালে ইউএস ওপেন জিতেছিলেন।
অ্যানিসিমোভাকে গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালিস্ট ভাবা হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। ১৫ বছর বয়সে জুনিয়র পর্যায়ে তিনি বিশ্বের দুই নম্বর ছিলেন এবং ওই পর্যায়ে ২০১৭ সালে ইউএস ওপেন শিরোপা জিতেছিলেন, যেখানে ফাইনালে হারিয়ে দিয়েছিলেন কোকো গাউফকে, যিনি বর্তমানে দুইবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী।
এরপর পায়ের চোটে ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত হয় অ্যানিসিমোভার। তবে ২০১৯ সালে সফল বছর কাটে তার, নিজের প্রথম ডব্লিউটিএ শিরোপা জেতেন ১৭ বছর বয়সে। ২০ বছর আগের সেরেনা উইলিয়ামসের পর সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ওই স্বাদ পান তিনি।
সেই ফর্ম বয়ে নেন ২০১৯ সালের ফরাসি ওপেনে। সেখানে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে হারিয়ে দেন ওই সময়ের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিমোনা হালেপ ও সাবালেঙ্কাকে।
কিন্তু কয়েক মাস পর ইউএস ওপেনের ঠিক আগে বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে থমকে যায় তার ক্যারিয়ার। বাবা ছিলেন তার কোচও। এরপর কোর্টে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। তবে ২০২২ সালের উইম্বলডনের জায়গা করে নেন কোয়ার্টার-ফাইনালে।
তবে ২০২৩ সালে মানসিক অবসাদের কারণে টেনিস থেকে লম্বা বিরতি নেন অ্যানিসিমোভা। ডাব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ে ৪০০ এর বাইরে থেকে গত বছর কোর্টে ফেরেন তিনি। চলতি আসরে খেলছেন ১৩তম বাছাই হিসেবে।
বিরতি নেওয়ার জন্য যারা তাকে সতর্ক করেছিল, উইম্বলডনের সাফল্য তাদের জন্য ‘বিশেষ বার্তা’ বলে মনে করেন অ্যানিসিমোভা।
“অনেকে আমাকে বলেছিল যে, খেলা থেকে এতদিন দূরে থাকলে তুমি আর কখনও শীর্ষ পর্যায়ে উঠতে পারবে না। নিজেকে অগ্রাধিকার দিলে আবার শীর্ষে ফিরে আসা যায়, এটা প্রমাণ করতে পারা আমার কাছে সত্যিই বিশেষ কিছু।”
উইম্বলডনের এই সাফল্যে ক্যারিয়ারের সেরা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দশের মধ্যে পৌঁছে যাবেন অ্যানিসিমোভা। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে এই বছর গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের হাতছানি তার সামনে। এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন ম্যাডিসন কিস, ফরাসি ওপেন কোকো গাউফ।
এজন্য আগামী শনিবারের ফাইনালেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে অ্যানিসিমোভাকে। তার প্রতিপক্ষ যে পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ইগা শিয়াওতেক। পোল্যান্ডের ২৪ বছর বয়সী তারকার প্রথম উইম্বলডন ফাইনাল এটি।