Published : 20 Dec 2023, 02:47 PM
হাই কোর্টের আদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন সুইট।
মঙ্গলবার তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন বলে বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন সুইট।
কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুইট প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় আসনটিতে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল চার জনে।
জেলা নির্বাচন অফিসার শহিদুল ইসলাম বুধবার সকালে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন সুইট মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন শুনেছি। কিন্তু তিনি এখনও অফিসে যোগাযোগ করেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন সুইটের জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় মৃত ভোটারের স্বাক্ষর ছিল উল্লেখ করে বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা।
এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও সুইটের মনোনয়ন বাতিল হয়। এরপর প্রার্থীতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
এ আসনে সুইট ছাড়াও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল আজিজ, জাতীয় পার্টি রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি জাকির হেসেন ও বিএনএম মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
বাছাইয়ে সুইট মনোনয়নের বাতিল হওয়ার পর এই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল আজিজের জয়ের বিষয়টি অনেকটা সহজ ছিল। কিন্তু একই দলের নেতা সুইট মনোনয়ন ফিরে পাওয়ায় এখন নির্বাচনের হিসাব-নিকেশ পাল্টে যেতে পারে।
তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের এই সমীকরণে যুক্ত হয়েছে এই দুই প্রার্থীর নিজ-নিজ উপজেলায় ভোটারের সংখ্যাও।
নৌকার প্রার্থী আব্দুল আজিজ তাড়াশ উপজেলার বাসিন্দা। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৪ জন। অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সুইটের উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৫৮ হাজার ৩০৯জন। অর্থাৎ রায়গঞ্জে এক লাখ এক হাজার ৭৭৫ ভোটার বেশি। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের ফলে।
প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া সাখাওয়াত হোসেন সুইট মোবাইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকে নানা ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছিল। মহামান্য হাইকোর্ট আমার প্রার্থীতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।”
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে কেউ প্রার্থী হলে সে হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে এক্ষেত্রে দলই চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নেবে। আমিও দলের গাইড লাইন অনুযায়ী চলব।”
আরও পড়ুন: