Published : 02 Mar 2024, 02:51 PM
ঢাকার বেইলি রোডে আগুনে পুড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ মারা যান শুল্ক কর্মকর্তা শাহজালাল উদ্দিন। তিনদিনে ছুটিতে সপরিবারে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল তার।
শাহজালাল উদ্দিন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের ছেলে।
৩৭ বছর বয়সি শাহজালাল ছাড়া নিহতরা হলেন- তার স্ত্রী মেহেরুন নেসা হেলালী (২৪) এবং তাদের চার বছর বয়সি মেয়ে ফাইরুজ কাশেম জামিলা।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ তিনটি গ্রহণ করেছেন শাহ জালাল উদ্দিনের বড় ভাই শাহজাহান সাজু।
সাজু উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ফোনে তিনি বলেন, মরদেহবাহী গাড়ি নিয়ে তিনি ঢাকা থেকে মরিচ্যার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।
এদিকে, শনিবার সকাল ৮টায় বাড়ির সামনে বসা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম। বাড়ির উঠানে সারিবদ্ধ চেয়ার।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটিতে ভিড় জমতে শুরু করেছে আত্মীয়-স্বজন আর গ্রামের মানুষের।
বাড়ির একটু দূরে পশ্চিম মরিচ্যা জামে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তৈরি করা হচ্ছে তিনটি কবর। যেখানে দাফন করা হবে শাহজালাল উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানকে।
ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিকে হারিয়ে অনেকটাই নির্বাক মুক্তিযোদ্ধা বাবা। তারপরও পাথরচাপা কষ্ট বুকে নিয়ে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে।
আবুল কাশেম বলেন, “পাঁচ ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে শাহজালাল উদ্দিন তৃতীয়। সে ২০১৭ সালে কাস্টমসের চাকরিতে যোগদান করে। তার শেষ কর্মস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলার পানগাঁও।
“ছেলে প্রতিদিন আমাকে ৩-৪ বার ফোন দিত। আমার ওষুধ সেবনের জন্য তাড়া দিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর আমার সাথে সর্বশেষ কথা বলেছিল শাহজালাল।”
আবুল কাশেম বলেন, “ছেলে আমাকে জানিয়েছিল, টানা তিনদিনের ছুটি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে খাগড়াছড়ি ভ্রমণে যাচ্ছে। তার শ্যালিকার মেডিকেল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শ্বশুর ঢাকা এসেছেন। তাদের সাথে দেখা করেই বাসে উঠে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা করবে।”
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা আরও জানান, এরপর থেকে ছেলের আর কোনো ফোন পাননি তিনি। তিনি ধারণা করেন, শাহজালাল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে খাগড়াছড়ি চলে গেছেন।
একই কথা বলেন, নিহত শাহজালাল উদ্দিনের ছোট ভাই কাশেম বিন লিংকন।
তিনি বলেন, “বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর কক্সবাজার কাস্টমস অফিসের ভাইয়ের এক সহকর্মী ফোন করে জানান, ফেইসবুকে অজ্ঞাত পরিচয় যে কয়েকজনের মরদেহ দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে তার ভাবি ও মেয়ের ছবি দেখা যাচ্ছে। ভাইয়ের বিষয়টি ওই সহকর্মী তখনও জানেন না।”
লিংকন বলছিলেন, পরে পরিবারের পক্ষে যোগাযোগ করা হলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভাবির বাবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে গিয়ে তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মরদেহ হস্তান্তর করতে আইনগত বিষয় থাকায় রাতে বড় ভাই (সাজু) ঢাকা পৌঁছে মরদেহ গ্রহণ করেছেন।
শাহজালালের একমাত্র বোন তসলিমা আকতার বলেন, “ভাইদের মধ্যে অনেকটাই পিতার ভূমিকা পালন করতেন শাহজালাল। প্রতিনিয়ত ফোন করে খোঁজ-খবর নিতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও ফোন করে কিছু লাগবে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। সেই ভাই এখন নেই।”
নিহত শাহজালালের মামাতো ভাই স্কুলশিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, “পশ্চিম মরিচ্যা জামে মসজিদ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে কবর তৈরি কাজ চলছে। ঢাকা থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার তাদের দাফন করা হবে।”