নিহতের পরিবারের উদ্যোগে শহরের খাস নওগাঁ মসজিদে জেসমিনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
Published : 02 Apr 2023, 08:43 PM
নওগাঁয় র্যাব হেফাজতে ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিন নিহত হওয়ার দশম দিনে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার আসরের নামাজের পর নিহতের পরিবারের উদ্যোগে শহরের খাস নওগাঁ মসজিদে জেসমিনের আত্মার মাগফেরাত কামনা বিশেষ এ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এতে সুলতানা জেসমিনের একমাত্র ছেলে সৈকত, ভাই সোহাগসহ স্বজন ও মুসল্লিরা অংশ নেন।
দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত শেষে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
দোয়ার আগে নিহতের মামা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার নজমুল হক মন্টু বলেন, “সুলতানার মৃত্যুর ঘটনা এখনও মেনে নিতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র ছেলে সৈকত তার মায়ের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ১০ দিনেও স্বাভাবিক হতে পারেনি। স্বজনদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ বিরাজ করছে।”
ঘটনার বিচার প্রসঙ্গে নজমুল হক মন্টু বলেন, “আমাদের ও দেশবাসীর নজর এখন হাই কোর্টের দিকে। সবাই পাঁচ তারিখের (৫ এপ্রিল) জন্য অপেক্ষা করছে। আশা করছি, হাই কোর্ট থেকে আমরা ন্যায় বিচার পাব।”
নিহতের পরিবারের উদ্যোগে শহরের খাস নওগাঁ মসজিদে জেসমিনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
র্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর খবর দেখে গত সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি আদেশ দেয়।
আদেশে ওই নারীর লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন চাওয়া হয়। ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে কোন কোন কর্মকর্তা ছিলেন, তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
সুলতানা জেসমিন নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন।
র্যাব বলছে, প্রতারণার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল। তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ২৪ মার্চ শুক্রবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জেসমিন।
তবে স্বজনদের অভিযোগ, র্যাব হেফাজতে নির্যাতনের কারণে জেসমিনের মৃত্যু হয়েছে।
সেই অভিযোগ অস্বীকার করে র্যাব-৫ রাজশাহীর কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাজমুস সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, আটকের পর জেসমিনকে র্যাবের কোনো ক্যাম্পে নেওয়া হয়নি। আটকের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মৌমিতা জলিল বলেন, ওই নারীকে ২২ মার্চ দুপুরে নওগাঁ হাসপাতালে আনা হলে তার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ পাওয়া যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেদিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ মার্চ (শুক্রবার) সকালে মারা যান সুলতানা জেসমিন।
২৫ মার্চ বিকালে পরিবারের কাছে সুলতানা জেসমিনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। নওগাঁ সরকারি কবরস্থানে সুলতানার মরদেহ দাফনের পর র্যাবের হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তার স্বজনরা।
সুলতানা জেসমিনের র্যাব হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে জেলায় মানববন্ধন করেছে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।