Published : 12 Dec 2022, 06:48 PM
গাজীপুরে এসএসসি পাস করা কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির কোনো আবেদন না করলেও ‘অনলাইন আবেদন সফল হয়েছে’ মর্মে এসএমএস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এই আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইন হওয়ায় ওইসব শিক্ষার্থী তা বাতিল করতে পারছেন না কিংবা নতুন করে আর কোনো কলেজে ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না।
প্রতিটি আবেদনে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম প্রথম পছন্দে রাখা হয়েছে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের কেউ এ কাজ করেছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ধারণা।
বিষয়টি জানিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন।
ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করা সাদিয়া আক্তার বলেন, তিনি বা তার পরিবারের কেউ অনলাইনে কলেজে ভর্তির আবেদন কিংবা টাকা জমা দেননি।
“কিন্তু গত ৮ ডিসেম্বর আমার মোবাইল ফোনে এসএমএস এসেছে ভর্তির আবেদন সাকসেসফুল – ইউর অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন হ্যাজ বিন সাবমিটেড সাকসেসফুলি অ্যান্ড ইউর সিকিউরিটি কোড ---।”
ভর্তির আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫০ টাকা জমাও হয়ে গেছে বলে সাদিয়া জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই আবেদনে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের নাম প্রথম পছন্দ রেখে দূর-দূরান্তের অন্যান্য কলেজের নাম দেওয়া হয়েছে।
সাদিয়া জানান, এ স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বোর্ড থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৫ পেয়েছেন। তার রোল নম্বর ১২৬১২১।
“পরে স্থানীয় কম্পিউটার দোকানে অনলাইনে পছন্দের কলেজের নাম উল্লেখ করে আবেদন করতে গেলে আবেদন আর নেওয়া হচ্ছে না; এ ছাড়া আগের আবেদনটি বাতিলও করা যাচ্ছে না।
“পরে বিষয়টি আমার বাবাসহ আমি ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেনের কাছে গেলে তিনি বলেন – দুইটি বছরই তো। থাকো না এ প্রতিষ্ঠানেই। আমাদের ছাত্রী আমাদের এখানেই থাকো।”
একই অভিযোগ করেন ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস হওয়া আজিম হোসেন।
তিনি বলেন, “আমি ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক শাখায় জিপিএ ৩.০৬ নিয়ে পাস করেছি। আমার রোল নম্বর ৩১৫২৯১। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় ভর্তির জন্য অনলাইনে কোনো ফি দেইনি কিংবা ভর্তির আবেদন করিনি।
“আমার অনুমতি না নিয়ে ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম উল্লেখ করে আমার ভর্তির জন্য আবেদন করেছে তারা।”
তার এ আবেদন বাতিল এবং বিনা অনুমতিতে তার আবেদন করার তদন্ত করে বিচার চেয়ে আজিম হোসেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন বলে জানান।
ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এএসসি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ পাস হওয়া ছাত্র মাহফিল হোসেন একই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমার অভিভাবক এ বিষয়টি কেন করা হয়েছে জানতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে অশালীন কথা বলেন এবং আমাকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে দেবে না বলে হুমকি দেয়।”
একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এসএসসি পাস শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার [রোল নম্বর ৫২২৩৯৯], মুসফিকুর রহমান [রোল নম্বর ৫২২৪৬২], নুসরাত জাহান নাবিলা [রোল নম্বর ৫২২৩৪৫], মহিন হায়দার [রোল নম্বর ৫২২৪৫৮], আশিক হোসেন [রোল নং ৫২২৬৮৫], আজিম হোসেন [রোল নম্বর ৩১৫২৯১], শারমিন আক্তার মিম [রোল নম্বর ২০৭১৩৬], ফাতেমা আক্তার [রোল নম্বর ১২৬১২৮] এবং আরও অনেকে একই অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “স্কুলের অন্য কেউ বা আমি নিজে এসএসসি উত্তীর্ণ কোনো শিক্ষার্থীকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করে দেইনি। যেসব শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আবেদন করে দেওয়ার জন্য এসেছে শুধু তাদেরই আমরা আবেদন করে সহযোগিতা করেছি মাত্র।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, “আমরা কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে অনুরোধ করে আমাদের কলেজে আবেদন করার জন্য বলেছি।”
তবে কিছু সংখ্যক বলতে কয়জন তা তিনি জানাতে পারেননি।
এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাতে এভাবে আবেদন করার দণ্ডণীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ভর্তির প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ‘পেইজে’ বক্স করে লেখা রয়েছে ‘অনুমতি ব্যতীত অপরের আবেদনপত্র পূরণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।”