ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২২ লাখ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া পাচার, গ্রেপ্তার ২
২০২৫ সালের ৪ জুন নরসিংদীর রউফকে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়; তবে ইমিগ্রেশনে বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
নরসিংদীর এক যুবককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাচার এবং প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য বলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
মঙ্গলবার রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির জেলা পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গাজীপুর সদর উপজেলার তিতারকুল এলাকার সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। তাদের মধ্যে সুবোধ চন্দ্র এই চক্রের মূল হোতা এবং শিমুল সহযোগী বলে দাবি পিবিআইয়ের।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, নরসিংদী সদরের বাসিন্দা আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রটির সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ জুন রউফকে ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। তবে মালয়েশিয়া বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে রউফ চক্রটির কাছে বিষয়টি জানালে তারা ভুল স্বীকার এবং পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে আরও টাকা দাবি করেন। ইতালি যাওয়ার আশায় দফায় দফায় তাদের হাতে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে দেন রউফ। শেষ পর্যন্ত ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে চক্রটি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার এবং তাকে ভয়ভীতি দেখান।
পরে এ ঘটনায় রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন আইনে ছয়জনের নামে একটি মামলা করেন। সোমবার মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআইয়ের এসআই মো. ইয়াসিন।
পরে তদন্ত দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে প্রথমে সুবোধকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিন দুপুরে দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পিবিআই।
সেইসঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
