পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ: ২ নেতা বহিষ্কার
“অন্য অভিযুক্তদের কোনো পদ-পদবি না থাকায় তাদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।”
পটুয়ালীর কলাপাড়ায় ‘ডিবি পুলিশ পরিচয়ে’ মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগের পর উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন-কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
বুধবার বাংলাদেশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্যাতনের অভিযোগ করেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।
তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের সময় তিনি ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্যাতিত ছাত্রদল নেতা যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের কোনো পদ-পদবি না থাকায় তাদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।”
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলার পর নির্যাতিত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারাজীর চাচা আমীর আলী ফারাজী বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মহিপুর থানায় মামলা করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন-কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা, ছাত্রদল নেতা মো. রাশেদ, সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, নাইম, রাসেল, হাসান, মাইনুদ্দিন ও কাওছার।
মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা সবাই উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং তাদের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলায়।
