২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি: জেলে ১৫ ডিলার, ‘প্রভাব নেই’ বাজারে

গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এ মামলা করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 12:19 PM

Updated : 24 Sep 2026, 12:22 PM

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে ১৫ ডিলার কারাগারে গেলেও সারের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

বাজারে সারের সরবরাহ ও বিক্রি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে বুধবার বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

পরিদর্শনে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দীন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলামিন ও মোহাম্মদ আব্দুল মালেক আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেছেন, “ডিলারদের কারাগারে পাঠানোর পরও বাজারে এর ‘দৃশ্যমান কোনো নেতিবাচক’ প্রভাব পড়েনি।”

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১৫ জন ডিলারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবিরের আদালতে মোট ২০ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক একজনের জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি ১৫ জনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ডিলারদের কারাগারে পাঠানোর পর সারের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কি না- দেখতে বুধবার শেরপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন বাজারের সার বিক্রির দোকান ও গুদাম পরিদর্শন করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

তারা নিউমার্কেট, কানাশাখোলা বাজার, ইমামবাড়ী বাজার ও কুসুমহাটি বাজারের বিভিন্ন দোকান ও গুদামে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি দেখেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেন।

কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, “সরেজমিনে নিউমার্কেট, কানাশাখোলা বাজার, ইমামবাড়ী বাজার ও কুসুমহাটি বাজারের বিভিন্ন সার বিক্রির দোকান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বাজারে সারের সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।”

এর আগে চলতি বছরের ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউ মার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেম জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অধিক মুনাফার আশায় সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। এতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়।

এজাহারভুক্ত ২০ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন মঙ্গলবার শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

তাদের একজনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ এখনও থাকায় আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তাকে জামিন দেন।

পুরানো খবর:

কালোবাজারে সার বিক্রি: শেরপুরের ১৫ ডিলার কারাগারে