২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কালোবাজারে সার বিক্রি: শেরপুরের ১৪ ডিলার কারাগারে

তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 05:36 PM

Updated : 22 Sep 2026, 06:00 PM

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১৪ ডিলারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ জন শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির একজনকে জামিন মঞ্জুর করে ১৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জানান রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মান্নান।

কারাগারে যাওয়া সার ডিলাররা হলেন- সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।

পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, এজাহারভুক্ত ২০ আসামির সবাই উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহ করে জামিন নেয়। তাদের মধ্যে ১৫ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জামিন দেন আদালত।

তবে বাকি ১৪ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদেরকে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারো পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউ মার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্ট্রার ও ক্যাশ মেম জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।