Published : 05 Sep 2022, 10:57 PM
দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা চীন থেকে আমদানি করা ডেমু ট্রেন মেরামত করলেন বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর লোকো ইয়ার্ডে পড়ে থাকা একটি ডেমু (ডিজেল-ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেনকে সচল করে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে রোববার।
পাবর্তীপুর লোকো ইয়ার্ডের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বেলা সাড়ে ৩টায় পার্বতীপুর থেকে কিছু যাত্রী নিয়ে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যথারীতি গন্তব্যে পৌঁছে মেরামত করা একটি ডেমু ট্রেন।
“ট্রেনটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার। দুয়েকদিনের মধ্যে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলে যুক্ত করা হবে।”

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে জাঁকজমক অনুষ্ঠানে দেশে প্রথম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডেমু ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রায় ৪২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ডেমু ট্রেন চীন থেকে আমদানি করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হয় ৬৫৫ কোটি টাকা।
এই ট্রেনগুলো ঢাকা-কুমিল্লা, আখাউড়া-সিলেট, লালমনিরহাট-পার্বতীপর, লাকসাম-চট্টগ্রাম, লাকসাম-চাঁদপুর, ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে চলাচল করত।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব ট্রেন পরিচালিত হতো বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ট্রেন হস্তান্তরের সময় সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি সম্পর্কে দেশীয় প্রকৌশলীদের অবগতও করা হয়নি। ফলে কোনো ট্রেন বিকল হলে সচল করতে চীনা প্রকৌশলীদের দারস্থ হতে হতো; যাতে ব্যয়ও হতো বিপুল অর্থ।

আমদানির ৪-৫ বছরের মধ্যেই একের পর এক বিকল হতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০টি ডেমু ট্রেনই বিকল হয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব ট্রেন মেরামতে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও আনবিক শক্তি কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়।
প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, তারা চার জন প্রকৌশলী দেড় বছরের গবেষণা ও চেষ্টায় চীনা প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ডেমু ট্রেনকে সচল করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতোমধ্যেই এই ট্রেনের যাত্রীসহ সফল ট্রায়াল হয়েছে।
পাবর্তীপুর লোকো ইয়ার্ডের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মেরামত হওয়া ডেমু ট্রেনের ট্রায়ালে লোড, গতি, পরিচালনা সবকিছুই ঠিকঠাক রয়েছে। রেলে যুক্ত হওয়ার পর আগামী ৪-৫ মাস অবজারভেশন শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে বাকি অচল ডেমু ট্রেনগুলোও সচল করা হবে নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: