কক্সবাজারে দুই শতাধিক ‘অবৈধ’ সিমকার্ড ও নিবন্ধনের সরঞ্জাম উদ্ধার

প্রথমবারের আঙুলের ছাপে অবৈধ আর দ্বিতীয়বারের ছাপে বৈধ মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন করা হতো

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 01:11 PM
Updated : 24 July 2022, 01:11 PM

কক্সবাজারে ‘অবৈধভাবে’ মোবাইল ফোনের সিমকার্ড নিবন্ধন করে সেগুলো চড়া দামে রোহিঙ্গাসহ অন্যদের কাছে বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

শনিবার কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার জানান।

তাদের কাছ থেকে দুই শতাধিক অবৈধ সিমকার্ড ও নিবন্ধনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আটকরা হলেন কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী নতুন বাজারের মোহাম্মদ জামালের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ (১৯), বদরমোকামের খোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (১৯), খাঁজা মঞ্জিলের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (২৭), হাসপাতাল সড়কের বঙ্গপাহাড়ের কালীপদ সাহার ছেলে সুজন সাহা (৩০) ও আইবিপি রোডের হরিজন পাড়ার জীবন বিশ্বাসের ছেলে জয় বিশ্বাস (২৪)।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে রোববার দুপুরে র‍্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খাইরুল ইসলাম সরকার বলেন, “কোনো গ্রাহক সিমকার্ড পরিবর্তন করতে গেলে আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়। চক্রটি কোনো সমস্যার কথা জানিয়ে গ্রাহকের প্রথমবারের আঙুলের ছাপ নিয়ে তা সংরক্ষণে রেখে দিত। পরে গ্রাহকের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার ছাপ নিয়ে চাহিদাকৃত সিমকার্ড সরবরাহ করত।

“প্রথমবারে সংগ্রহ রাখা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সেই গ্রাহকের নামে আরেকটি সিমকার্ড নিবন্ধন করত তারা। অবৈধ পন্থায় নিবন্ধন করা ওই সিমকার্ডটি পরে চড়া মূল্যে বিক্রি করত।”

গোপন খবর পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র‌্যাব সংঘবদ্ধ চক্রটিকে শনাক্ত করে বলে তিনি জানান।

অভিযানের বিবরণে তিনি বলেন, শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরের দি কক্স সিটি সুপার মার্কেটে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচ জনকে আটকে সক্ষম হয় র‍্যাব। পরে আটকদের হেফাজত থেকে অবৈধভাবে নিবন্ধন করা ২০৪টি সিমকার্ড এবং নিবন্ধনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটকদের মধ্যে জয় বিশ্বাস অবৈধভাবে নিবন্ধন করা ‘মোবাইল ফোনের সিমকার্ড বিক্রয়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের হোতা’ বলে জানান র‍্যাবের এ কর্মকর্তা।

খাইরুল বলেন, জয় বিশ্বাস একটি টেলিকম অপারেটর কোম্পানিতে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। তখন সিমকার্ড অবৈধ পন্থায় সচল ও ব্যবহার করার কৌশল রপ্ত করেন তিনি। এছাড়া তার এক সহকর্মী বন্ধু বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকরি করছেন। তিনিও চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ পন্থায় সিমকার্ড সংগ্রহ করে জয়ের কাছে সরবরাহ করতেন।

“পরে এসব সিমকার্ড কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে চড়া মূল্য বিক্রি করত চক্রটি; যার অধিকাংশই রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে সরবরাহ করা হয়।”

আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে খাইরুল জানান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক