০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎহীন কুমিল্লা, গাছ পড়ে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে; মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Oct 2022, 02:22 AM

Updated : 25 Oct 2022, 02:22 AM


ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে রেললাইন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

রাত ১১টার দিকে সড়ক থেকে গাছ সরানো হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কুমিল্লার বিদ্যুৎ সংযোগ।

সোমবার রাত ৮টার পর নগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় সব স্থানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলার দাউদকান্দিতে গাছ ভেঙে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের গৌরীপুর, ধীতপুর, হাসানপুর ও ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন। 

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের মুদাফফরগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কুমিল্লার বরুড়ার আমড়াতলীতে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে ৪ ঘণ্টার বেশি। লাকসাম রেলওয়ে জংশন প্ল্যাটফর্মের একটি আম গাছ উপড়ে রেললাইনের ওপর পড়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, “সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টায় পর্যন্ত মহাসড়কের ১০ থেকে ১২টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে দাউদকান্দির ছয়টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে নিয়ে গাছে সরিয়েছি। রাত ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।”


জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে নগরীর ফৌজদারি গণপূর্ত ভবনের সামনে রাস্তায় গাছ পড়ে আহত একজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২য় মুরাদপুর গোবিন্দ পুকুরপাড় এলাকায় ঘরের চাল উড়ে বৈদ্যুতিক তারের ওপরে ঝুলে আছে। সদরের আমড়াতলীত জামবাড়িতে ঝড়ে গাছ পড়ে বিদ্যুতের মেইন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নাঙ্গলকোটের মাহিনীতে গাছ পড়ে ভেঙেছে রাইস মিলের ছাউনি, কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে পড়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের আশকামতা গ্রামে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরানোর হচ্ছে, অন্যান্য বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

“প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে খবর নেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ১০ টন করে চাল পাঠানো হচ্ছে প্রতি উপজেলায়।”