সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ।
Published : 31 Dec 2022, 06:24 PM
'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' করে হারানোর অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।
নির্বাচনের একদিন বাদে শনিবার উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মামুনুর রশিদ।
মামুনুর ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে রয়েছেন এবং ওই ইউনিয়নের টানা দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেখানে ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ার চশমা প্রতীকে পেয়েছেন চার হাজার ১৮৭ ভোট আর মামুনুর পেয়েছেন চার হাজার চার ভোট।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অভিযোগ করেন, “নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে প্রশাসনের লোকজন প্রহসনের পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষ করে একটি কেন্দ্র তাপস শীল নামের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলিয়টগঞ্জ রাবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রমজান আলী বিএনপি সমর্থিত ওই প্রার্থীকে জেতাতে এবং নৌকাকে হারাতে যত প্রকার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার দরকার, তার সব-ই করেছেন। আমি এই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি নির্বাচন কমিশনের কাছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপস শীল ভ্রাম্যমাণ দায়িত্বে থাকলেও বলতে গেলে সকাল থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত রাবি বিদ্যালয় কেন্দ্রে চেয়ার পেতে বসেছিলেন।”
“ইভিএমে সমস্যার কথা বলে তারা অনেক ধীরগতিতে ভোট নিয়েছে। অবাক করা ব্যাপার হলো তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কথিত ভোট নিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তাপস শীল আমাকে টার্গেট করে রাবি কেন্দ্রে দিনভর অবস্থান করে সাতটি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত ওই প্রার্থীকে ভোটকক্ষে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাপস শীলের সঙ্গে বিএনপির ওই প্রার্থীর ভাইকে সারাদিন এক সঙ্গে কাজ করতে দেখেছি আমরা।”
সংবাদ সম্মেলনে নৌকার প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন দোলন বলেন, “ওই প্রার্থীকে (আনোয়ার হোসেন) জেতাতে তারা এতোটাই ধীরগতিতে ভোট নিয়েছেন যে, কোনো কোনো ভোটার সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে অবশেষে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন। আমরা রাবি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফের নির্বাচন দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করবো। পাশাপাশি ওই ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রিসাইজিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেব।”
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইলিয়টগঞ্জ রাবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা কেন্দ্রে এসেছেন তাদের ভোট সন্ধ্যা প্রায় ৭টা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ইভিএমে অনেক ভোটার এখনও ভোট দিতে অভ্যস্ত না। এজন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে; তবে মেশিনে কোনো সমস্যা ছিলো না। আর ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেট স্যার বেশিরভাগ সময় আমাদের কেন্দ্রে ছিলেন ঝামেলা হতে পারে এজন্য। আমরা কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিনি।”
এ ব্যাপারে কথা বলতে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস শীলের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি ধরেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা।
তিনি বলেন, “ইউএনও স্যার ছুটিতে আছেন। এ নিয়ে কথা বলতে হলে মঙ্গলবার কল করতে হবে।“
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। কোনো প্রার্থী হেরে গেলে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেই থাকে। এরপরও তিনি যদি মনে করেন কোনো অনিয়ম হয়েছে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারনে। পরবর্তী সময়ে কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।“