ফেনীতে হাত-পা-মুখ বেঁধে শিশুকে হত্যা, পালিয়ে বাঁচল অপর শিশু

দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

ফেনী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 01:18 PM
Updated : 6 Feb 2024, 01:18 PM

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় হাত, পা ও মুখ বেঁধে এক শিশুকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পালিয়ে বেঁচে যায় ওই শিশুর ১২ বছরের এক বড় বোন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম বাঁশপদুয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন খান জানান।

নিহত উম্মে সালমা লামিয়া (৭) পৌরসভার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা নুর নবীর মেয়ে। নিহতের বড় বোনের নাম ফাতেমা আক্তার নিহা। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের এয়ার আহাম্মদের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে নিয়ে ভাড়া থাকেন নুর নবী। সঙ্গে প্রথম স্ত্রীর দুই মেয়েও থাকত। মঙ্গলবার দুপুরে হেলমেট পরা দুই যুবক বাসায় গিয়ে নিজেদের পল্লী বিদ্যুতের লোক দাবি করে দরজা খুলতে বলেন।

এ সময় ঘরে থাকা ফাতেমা ও লামিয়া দরজা খুলে দিলে ঘরে ঢুকে ওই দুই যুবক লামিয়াকে জাপটে ধরে টেপ দিয়ে মুখ, হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তবে ফাতেমা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেয়।

ঘটনার সময় নুরু নবী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ফেনীতে অবস্থান করছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

নুর নবীর সাবেক স্ত্রী আয়েশা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “নুর নবীর দ্বিতীয় স্ত্রীর লোকজন আমার দুই সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে।”

নুর নবী বলেন, “প্রতিবেশীর মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ছোট মেয়েকে কারা যেন হত্যা করেছে। মেয়ে হত্যার বিচার চাই।”

ওসি শাহাদাত বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

সন্দেহজনক কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।