শাবিতে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের হেনস্তার অভিযোগ

তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।   

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 04:21 PM
Updated : 18 Sept 2022, 04:21 PM

উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ করেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আমিনা পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।

সংবাদ সম্মেলনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ১৬ জানুয়ারি পুলিশি হামলার পর যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।

“শিক্ষার্থীদের নিয়মিতই ক্লাসে শিক্ষকদের টিজের শিক্ষার হতে হচ্ছে। ক্লাসে অহেতুক প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী থিসিস করতে চাইছে; কিন্তু তার চাহিদার আলোকে কোনো শিক্ষকই তাকে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক নন।” 

এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষামন্ত্রী তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাজ।

তিনি বলেন, পাঁচটি দাবি এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে আট দফা প্রস্তাবনা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছিল মন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

“কিন্তু এতদিন পরেও আমরা দেখছি, ফরিদ উদ্দিন আহমদ শাবির উপাচার্য পদে বহাল আছেন। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করার কথা ছিল; কিন্তু এত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মামলাগুলো তোলা হয়নি।”

‘১৬ জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুণ্ডু’ উল্লেখ করে রাজ বলেন, তাকে অন্তত নবম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কোনোটাই পাননি। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সজল কুণ্ডু যে ক্যাফেটোরিয়াটি চালাতেন সেটিও কেড়ে নিয়েছে।” 

এতে সজল চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে পড়েছেন এবং তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবরিনা শাহরিনা রশিদ, শাহরিয়ার আবেদীন, নৃবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষার্থী স্প্লিন্টারবিদ্ধ সজল কুণ্ডু, পরিসংখ্যান বিভাগের নওরীন জামান, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির হালিমা খানম ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রক্তিম সাদমান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক