Published : 10 Dec 2022, 12:51 AM
শারীরিক প্রতিবন্ধী রহিমা বেগমকে বোঝা হয়ে থাকতে হবে না। তিনি এখন ব্যাংক কর্মকর্তা।
পূবালী ব্যাংক লিমিটেড তাকে ‘জুনিয়র অফিসার’ পদে নিয়োগ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পূবালী ব্যাংকের সিলেট প্রিন্সিপাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক আবু লাইছ মো. সামসুজ্জামান তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
এ সময় ব্যাংকের সিলেট প্রিন্সিপাল অফিসের এজিএম ইসফাকুর রহমান কোরেশী ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার খায়রুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে রহিমা পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পূবালী ব্যাংক তার জীবন পাল্টে দিয়েছে। পিতৃহীন অভাবের সংসারে একমাত্র মাকে নিয়ে তার কষ্টের জীবন এখন সুখের আবহে রূপ নেবে।
নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি, মায়ের সহযোগিতা এবং স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কারণে তিনি এ পর্যন্ত এসে পৌঁছেছেন বলে জানান।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ জ্যোতিরবন্দ গ্রামের রহিমা বর্তমানে সিলেটের এমসি কলেজে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথে বাধা হতে পারেনি।
পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবু লাইছ মো. সামসুজ্জামান জানান, পূবালী ব্যাংক এ পর্যন্ত চারজন প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীকে ব্যাংকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দিয়েছে।
“সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যাতে প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা না ভেবে তাদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সম্পদে রূপান্তরিত করা যায়।”
তিনি আরও জানান, ব্যাংকের সিলেট স্টেডিয়াম শাখায় সালামত রাজা চৌধুরী নামে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শাহী ঈদগাহ শাখায় সানজিদা রহমান নামে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ শাখায় আল-আমিন নামে একজন বাক-প্রতিবন্ধী কর্মরত রয়েছেন।
“সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আমরা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রহিমা বেগমের হাতে প্রধান কার্যালয়ের নিয়োগপত্র তুলে দিলাম।”