রংপুরে সালিশে পরানো হলো জুতার মালা

ওই ব্যক্তির পুত্রবধূ শ্বশুরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 July 2022, 06:20 PM
Updated : 30 July 2022, 06:20 PM

পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অপবাদ দিয়ে রংপুরের কাউনিয়া উজেলায় গ্রাম্য সালিশে এক ব্যক্তিকে জনসমক্ষে গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে সারই ইউনিয়ানের ধুম গাড়ার চড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

তবে ওই ব্যক্তির পুত্রবধূসহ পরিবারের সদস্যরা এ শ্লীলতাহানির অভিযোগ অস্বীকার করে গলায় জুতা মালা পরানোয় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ওই ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২২ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার পুত্রবধূর ঘরে ঢুকেছেন বলে অভিযোগ তোলেন ধুমগাড়ার চড়ের গ্রামের কয়েকজন যুবক। এ নিয়ে তাকে সামাজিকভাবে এক ঘরে করার জন্য মসজিদ কমিটির নামে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে শুক্রবার বিকালে ধুমরে কুটি জামে মসজিদের সামনে একটি খোলা মাঠে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে মসজিদ কমিটির সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সালিসে বসেন।

সেখানে এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রউফের নির্দেশে তাকে জোর করে জুতার মালা গলায় পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

সালিসে উপস্থিত থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিচারের নামে সালিসে অন্যায় করা হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওই ব্যক্তিকে জুতার মালা পরিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এর জন্য হারাগাছ পৌরসভার টাংরির বাজার এলাকার আব্দুর রউফ দায়ী। কারণ, তার নির্দেশে স্থানীয় মনির হোসেনসহ আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তির গলায় জুতার মালা পরিয়ে বাজারে ঘোরান। এ সময় ওই ব্যক্তি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

“আমি বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার গলা থেকে জুতার মালা ছিঁড়ে ফেলি। তখন মনিরসহ আরও কয়কজন আমাকেও মারধর করার জন্য ছুটে আসে।”

তিনি আরও বলেন, মনিরের সঙ্গে ভুক্তভোগীর টাকা-পয়সা নিয়ে পূর্ববিরোধ থাকার সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে মনিরসহ আরও কয়েকজন সালিসের আযয়োজন করেন। আর এতে আব্দুর রউফসহ অনেকেই ইন্ধন দেন।

ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির পুত্রবধূর দাবি, ওই দিন রাতের অন্ধকারে কেউ একজন তার ঘরে ঢুকেছিলেন। ওই সময় তার স্বামী ঘরে ছিলেন না। হঠাৎ ঘরে অন্য কাউকে দেখে তিনি চিৎকার দিলে ওই লোক পালিয়ে যায়। ঘর অন্ধকার থাকায় কে ঢুকেছিল, তা তিনি চিনতে পারেননি।

তবে ওই লোক তার শ্বশুর নন বলে তিনি সবাইকে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর ছেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার বাবাকে ডেকে এনে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এতে আমরা সামাজক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তি দাবি করছি।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ কমিটির সদস্য মনির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতের অন্ধকারে পুত্রবধূর ঘরে ঢোকার বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বসেছিল, তা ঠিক। তবে তার নির্দেশে জুতার মালা পরানো হয়নি। পাশের গ্রামের আব্দুর রউফের নির্দেশে সেখানে উপস্থিত লোকজন জুতার মালা পরিয়েছে। এখানে আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হচ্ছে।”

জুতা পরানোর নির্দেশ নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুর রউফ।

তিনি বলেন, “আমি সালিসে উপস্থিত। সবাই তো দেখেছে, শুনেছে, সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি তো কাউকে গলায় জুতার মালা পরানোর নির্দেশ দিইনি। শুধু শুধু আমাকে জড়িয়ে এলাকায় সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ।”

রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ওসি রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার দুজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ইমোমধ্যে একজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসমিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক