ঘূর্ণিঝড়ে মানিকগঞ্জে ৭৩৭ হেক্টর ফসলের ক্ষতি: কৃষি বিভাগ
সিংগাইরের চাষি আবু বকর জানান, তার তিন বিঘা জমিতে করা পেঁপে বাগানের অনেক পেঁপে গাছ ভেঙে গেছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জে ৭৩৭ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানান।
সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানলেও এর প্রভাবে সারাদেশেই প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বয়। এতে ক্ষেতে থাকা আমন ধান ও রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য বলছে, সোমবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ে ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং ১ হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মোট ৪১৯টি ইউনিয়নে ঝড় ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে। উড়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার ঘর। কিছু স্থানে সড়ক ভেঙেছে, বাঁধও ভেঙেছে।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এনায়েত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঝড়ে সাত উপজেলার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ জেলায় ৭৩৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন ধান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, মাশকলাই, সরিষা, পেঁপে এবং কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিংগাইরয়ে অনেকগুলো পেঁপে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরিরামপুরসহ কয়েকটি উপজেলায় কলাবাগান ও ভুট্টাচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।
সিংগাইরের পেঁপেচাষি আবু বকর জানান, তার তিন বিঘা জমিতে করা পেঁপে বাগানের অনেক পেঁপে গাছ ভেঙে গেছে।
হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের মালেক মিয়া পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন। টানা বৃষ্টি ও বাতাসে ধান ঝরে পড়েছে এবং তলিয়ে গেছে।
“অতিরিক্ত বাতাস আর পানির কারণে ধানের ক্ষতি হয়েছে। খরচ উঠবে কি-না জানি না।”
আরেক কৃষক আফসার আহমেদ বলেন, “২০ হাজার টাকা খরচ করে পাঁচ বিঘা জমিতে লাল শাক, ধনেপাতা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছি। পাঁচ বিঘা জমির সবজি পানির নিচে চলে গেছে। পুরো খরচের টাকাই জলে গেল। এখন চলবো কেমনে?”
আব্দুর রহিম নামে একজন কৃষক বলেন, “ছয় বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছিলাম। টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে পুরোটাই পানির নিচে চলে গেছে। ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন খরচের টাকাও উঠবে না।”
