হিসাব তলব: স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দুদক কার্যালয়ে এমপি জাফর

সংসদ সদস্য বেরিয়ে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর বেরিয়ে যান তার স্ত্রী ও সন্তানেরা।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 12:20 PM
Updated : 20 Sept 2022, 12:20 PM

সম্পদের হিসাব তলবের পর কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম, ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন ও মেয়ে তানিয়া আফরিন দুদক কার্যালয়ে হাজির হন।

দুই ঘণ্টার বেশি অবস্থানের পর দুপুর ২টার দিকে চকরিয়া-পেকুয়ার সংসদ সদস্য দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়েন। 


এ সময় সংবাদকর্মীরা এগিয়ে গেলে সংসদ সদস্য বলেন, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। এটাই লিখেন আপনারা।”

দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের স্ত্রী শাহেদা বেগম চকরিয়া পৌরসভার পালাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও জলমহাল দখল, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠে। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ অগাস্ট দুদকের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংসদ সদস্য জাফর আলম, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে ৪ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু ওইদিন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন থাকায় সংসদ সদস্য জাফর আলম  দুদকে সময় চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তাদের হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।

এদিকে জাফর আলম বের হয়ে যাওয়ার আরও দেড় ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কার্যালয় থেকে বের হন শাহেদা বেগম ও তার দুই সন্তান।

এ সময় শাহেদা বেগম কিছু না বললেও ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিন সংবাদ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ছবি, ভিডিও বেশি-বেশি নেন; পরে দেখা যাবে।”


এ সময় তিনি আরও বলেন, “সরকারি মেগা প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমার বাবা (এমপি জাফর) প্রতিবাদ করেছেন। যারা এরই মধ্যে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের কবলে পড়েছেন; এদের একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে। এর কোনো ভিত্তি নেই।”


যাওয়ার সময় তুহিন বাবার সুরেই বলেন, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না।”

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা কার্যালয়ে এসেছিলেন। আমরা কথা বলেছি।”

“তবে অভিযোগের ব্যাপারে এখনও কথা বলার সময় আসেনি।” 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক