ফেনীতে কোচিং সেন্টারের আড়ালে ‘ছাত্রশিবিরের গোপন বৈঠক’, গ্রেপ্তার ২৬
তল্লাশী চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ শিবিরের প্রচারপত্র, বিভিন্ন ধরনের বই, ব্যানার, ফেস্টুন ও ছয়টি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
ফেনীতে একটি কোচিং সেন্টারের আড়ালে জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামি ছাত্র শিবিরের গোপন বৈঠক’ চলাকালে হাতবোমা, প্রচারপত্র ও বিভিন্ন বইসহ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও নাশকতার ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, নূর মোহাম্মদ (২০), মো. মেহেদী হাসান (২১), মুরতাছির আহম্মদ (১৯), মো. নূর নবী (২০), মোহাইমিনুল ইসলাম (২১), নোমায়ের বিন হোসাইন (১৯), আব্দুল্লাহ আলম ফাহাদ (২০), মো. হাবিব উল্যাহ (১৮), মো. সায়েম (১৮), জাহিদ হোসেন (২৪), মো. জুনায়েদ (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২৮), জহিরুল ইসলাম (২০), মো. মোরশেদুল ইসলাম (১৯), মো. শহীদুল ইসলাম (২০), মো. সেজান (১৯), মো. সৌরভ হোসেন (২০), ইয়াছিন আরাফাত (২০), মো. ফাহিম (১৯), মো. আনিছুর রহমান (২১), আবু জাফর (২৫), আবদুল আলিম (২১), আবদুল কাদের (২৫), আজিমুন করিম (২০), মোহাম্মদ আরিফ (১৯) ও তাহমিদ শাহরিয়ার (১৯)।
এদের মধ্যে ১৭ জন ফেনী, তিন জন নোয়াখালী, তিন জন চট্টগ্রাম এবং একজন করে কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর ও মাদারিপুরের বাসিন্দা রয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ছাত্র শিবিরের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে স্থাপিত ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ‘ফোকাস কোচিং সেন্টার’ এ বেশ কিছু দিন থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল এমন তথ্য ছিলো পুলিশের কাছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কোচিং সেন্টারে ছাত্রশিবিরের গোপন বৈঠক চলছে এমন খবরের ভিত্তিতে শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি দল, মডেল থানা পুলিশের দল, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল ও পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কোচিং সেন্টারে অবস্থানরতরা পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ ২৬ জনকে আটক করে। পরে ওই সেন্টারে তল্লাশী চালিয়ে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ শিবিরের প্রচারপত্র, বিভিন্ন ধরনের বই, ব্যানার, ফেস্টুন জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া ওই কোচিং সেন্টারে অতি গোপনে লুকিয়ে রাখা ছয়টি তাজা হাতবোমাও উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে কোচিংয়ে জামায়াত বা শিবিরের কোনো কর্মসূচি ছিল না দাবি করে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তাদের একটি ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণী চলছিল। এ সময় হঠাৎ পুলিশ এসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সকলকে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত আজিমুন করিমের বাবা কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের উপ-পরিচালক (রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল করিম বলেন, “আমার ছেলে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ফেনী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেডিকেলে ভর্তির জন্য ঢাকায় ‘ফোকাস কোচিং সেন্টারে’ ভর্তি করিয়ে ছিলাম।
“পরে রোজায় ওই কোচিংয়ের ফেনী শাখায় স্থানান্তর করিয়ে ক্লাস করাচ্ছিলাম। আমার ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি যুব রেড ক্রিসেন্টের সাথে জড়িত। সে শিক্ষাজীবনে কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলো না।
“তাকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে শিবির সদস্য বানিয়ে দিয়েছে। আমি ছেলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।"
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান জানান, শিবিরের ২৬ জনকে আটকের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র এসআই জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও নাশকতার একাধিক ধারায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
