০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মব’ করে ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করা: মামলা, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে একদল লোক মিছিল নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 03:09 PM

Updated : 07 Oct 2026, 03:09 PM

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে সাক্ষর করতে বাধ্য করার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এ মামলায় রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন মঙ্গলবার রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান।

উপাচার্যের সঙ্গে তার একান্ত সচিব (পিএস) নাজমুল হোসাইনকেও পদত্যাগপত্রে সাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তারের আগে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান, “তাঁতী দলের মহানগর সভাপতি কাজল, কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামালের নেতৃত্বে ভিসিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা সব জানেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে নজরুল হুদা বলেন, “এটা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। ছাত্র-জনতার ব্যানারে স্থানীয় বিএনপি ও এলাকাবাসী করেছে। এটা ভিসির কারণেই হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ভিসি নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। ঠিকাদারি কাজ নিয়েও ঝামেলা করে। এ নিয়ে মানববন্ধন হয়েছিল। পরে ভিসি পদত্যাগ করেছে শুনেছি।”

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে একদল লোক মিছিল নিয়ে একরকম জোর করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং তাদেরকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ বলে আখ্যা দেন।

এ সময় আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ও সেকশন অফিসারের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভি ভিডিও সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একইসঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন।

ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ

এদিকে ঘটনার পর থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে এলেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোফাখখারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের পরিবেশ তৈরি হয়নি। পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়প্রধানের সঙ্গে এমন ঘটনার পর সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, “ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তি এর আগেও তার পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। বিভিন্ন সময় তারা ঠিকাদারি কাজ চেয়েছেন এবং তাঁদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন।”

চিকিৎসক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

এদিকে, উপাচার্যকে অপমান, লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহীর চিকিৎসক এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছাড়াও মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

পুরানো খবর:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে ভিসির স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ