সিরাজগঞ্জে ভাঙছে হাড্ডি খোলা বেড়ি বাঁধ, শঙ্কায় ১২ গ্রামের মানুষ

তেকানী ইউপি চেয়ারম্যান জানান, প্রায় দুইশ হেক্টর আবাদি জমি, একটি স্কুল, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মসজিদসহ ২০টি বসতবাড়ি যমুনায় বিলীন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 12:50 PM
Updated : 26 July 2022, 12:50 PM

যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার মধ্যে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে তেকানী হাড্ডি খোলা বেড়ি বাঁধের একাংশসহ নদীর তীরের জমি, বসত বাড়ি, স্কুল ও মসজিদ তলিয়ে গেছে।

কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন বলছে, বন্যার মধ্যে করার কিছু নেই। বন্যা চলে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তেকানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, হাড্ডি খোলা বেড়ি বাঁধটি রক্ষা করা না গেলে ভাটিতে অবস্থিত তেকানীর পাঁচটি গ্রাম ও মেছড়া ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের বিরাট এলাকা যমুনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন বাসিন্দারা।

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে মাটির তৈরি হাড্ডি খোলা বেড়ি বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

ভাঙনের মুখেও বেড়ি বাঁধটি রক্ষায় এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, “নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া বাঁধ রক্ষায় পাউবোর পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও হাড্ডি খোলা বেড়ি বাঁধ ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

তিনি জানান, গত ১৫/২০ দিন চরাঞ্চলের ভাঙনে নদীতীরের আশপাশের প্রায় দুইশ হেক্টর আবাদি জমি, একটি স্কুল, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মসজিদসহ ২০টি বসতবাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে।

যমুনা নদীর বাম তীরের এসব এলাকা রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।

একই দাবি জানিয়েছেন তেকানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম শিবন চালকাদারসহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী মঙ্গলবার বিকালে বলেন, “বন্যার সময় তেকানী এলাকার ভাঙন রোধে আসলে কিছু করার নেই। বন্যা চলে গেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক