১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উপজেলা নির্বাচন: হবিগঞ্জে তপ্ত রোদেও থেমে নেই প্রচার

এবারের নির্বাচনে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন: হবিগঞ্জে তপ্ত রোদেও থেমে নেই প্রচার

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কাসেম চৌধুরীর পক্ষে মতবিনিময় সভা।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Apr 2024, 11:16 PM

Updated : 25 Apr 2024, 11:16 PM

প্রথম ধাপে হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতীক নিয়ে হাটে-ঘাটে-মাঠে জমজমাট প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকরা।

বৈশাখের তপ্তরোদও যেন তাদেরকে থামাতে পারছে না। প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার। বিশেষত বিকালের রোদ পড়ার পর থেকে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে বেশি যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

প্রার্থী ও সমর্থকরা বলছেন, গরম তো আছেই। সামনে গরম আরও বাড়বে। গরমের কথা চিন্তা করে বসে থাকলে প্রচার হবে না।

আবার কেউ কেউ বলছেন, এখন বরং গরমের কারণে মানুষ বাড়িঘরে থাকছে। ফলে দিনে-দুপুরে প্রচারে বেরিয়ে সবাইকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে কষ্ট হলেও তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। অনেক প্রার্থী আবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে সুযোগ চাইছেন আবারও।

তবে ভোটাররা বলছেন, যারা হাওরবাসীর শিক্ষাদীক্ষা, মাঠঘাট, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কাজ করবেন তাদেরকেই ভোট দেবেন তারা।

এবারের নির্বাচনে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ছয়জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান (আনারস), উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকবর হোসেন (ঘোড়া), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন মিয়া (কাপ-পিরিচ), শিবপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার (মাছ), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লোকমান মিয়া (দোয়াত-কলম) ও ডা. রেজাউল করিম (মোটর সাইকেল)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হীরেন্দ্র পুরকায়স্থ (বই), উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাজাহান মিয়া (টিয়া পাখি), উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জাহিদ হাসান জীবন (চশমা), উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলোয়ার হোসেন মিলু (তালা), কালীপদ পাল (টিউবওয়েল), আব্দুল জলীল (বৈদ্যুতিক বাল্ব) ও পল্লী চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশীদ পেয়েছেন (মাইক) প্রতীক।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রাণী সরকার (প্রজাপতি), সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার শিখা (হাঁস) ও মাহমুদা আক্তার রেফা (ফুটবল)।

একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৪৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৭২৫ জন ও নারী ভোটার ৪৭ হাজার ৩০২ জন। উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৩টি।

অপরদিকে, বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন- হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী (মোটর সাইকেল), উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন মাস্টার (ঘোড়া) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান (আনারস)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন- প্রিয়তোষ রঞ্জন দেব (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মো. আসিক মিয়া (তালা), সাংবাদিক এস এম সুরুজ আলী (মাইক), ফারুক আমীন (উড়োজাহাজ), সৈয়দ নাছিরুল ইমাম (টিয়া পাখি), আশরাফ হোসেন খান (চশমা), কৃষ্ণ দেব (টিউবওয়েল), তাফাজ্জুল হক (বই)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন- জাহেনারা আক্তার (প্রজাপতি), মুক্তা রানী দাশ রিয়া (ফুটবল) ও শিউলি রানী দাস (কলস)।

ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকবর হোসেন বলেন, “সবাই প্রচারে আছে। তাই আমার কর্মীরাও প্রচার চালাচ্ছেন। গরমের কথা ভাবলে তো চলবে না।”

তিনি বলেন, “আজমিরীগঞ্জ পিছিয়ে পড়া জনপদ। দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষা-দীক্ষা ও রাস্তাঘাটসহ নানা কারণে পিছিয়ে আছে উপজেলাটি। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পিছিয়ে পড়া এ জনপদটিকে শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ দিয়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করতে চাই।”

বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী বলেন, “আমি পাঁচ বছর অবহেলিত বানিয়াচংবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। আমার কাছে যারাই এসেছে আমি দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

“আমার এখনও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাকি আছে। কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাকেই বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করতে বলে আমি আশাবাদী।”

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, “আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বিঘ্নে ভোট করার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে সব চেষ্টাই করা হবে।”