১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে বন্ধ কারখানার সামনে পোশাক শ্রমিকদের অবস্থান 

পাওনা আদায় না হলে ঢাকার গুলশানে মালিকের বাড়ি ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Nov 2023, 08:21 PM

Updated : 05 Nov 2023, 08:26 PM

গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধি নয়, চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বন্ধ কারখানার সামনে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা।

পাওনা আদায় না হলে মালিকের বাড়ি ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

গত সোমবার থেকে মহানগরীরের লক্ষ্মীপুরা এলাকার স্টাইল ক্রাফট ও ইয়াং ওয়ান্স বিডি লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা দুটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছেন।

শ্রমিকরা জানান, কারখানা দুটি হলেও প্রধান ফটক একটিই এবং মালিক একজনই।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

কর্মসূচি পালনের সপ্তাহ পার হলেও রোববার দুপুর পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ শ্রমিক তাঁবুর নীচে বসে আছেন। নিজেরা টাকা তুলে তাঁবুর সামনে খিচুড়ি রান্না করে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন। একটি ব্যানারে তাদের দাবিগুলো লিখে তাঁবুর পাশে খুঁটিতে টানিয়ে রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, চলতি বছরের জুলাই থেকে তাদের বেতন এবং কোরবানির ঈদের বোনাস ছাড়াও অর্জিত ছুটির টাকা বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধার টাকা, চাকরি হতে অবসানজনিত আইনানুগ পাওনাদিও বকেয়া।

পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকবার দাবি জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার তারিখ দিলেও টাকা দেয়নি।

শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটির নেতা মো. সুরুত আলী বলেন, “পরে আমরা কলকারখানা অধিদপ্তর এবং শ্রম আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালতও কারখানা মালিককে ওই টাকা পরিশোধে তারিখ বেঁধে দেন।

“অগাস্ট মাসে কিছু শ্রমিককে ঈদ বোনাস দিলেও কাউকেই বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। ২২ অক্টোবর এক মাসের বকেয়া বেতন দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেয় শ্রম আদালত। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ওইদিনও তা পরিশোধ করেনি।”

সুরত আলী আরও বলেন, “এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আবারও বিক্ষোভ ও কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করি। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও টাকা পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছি।”

বেতন আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া শ্রমিকরা ঢাকার গুলশানে থাকা কারখানা মালিকের বাড়ির ফটকে অবস্থান ও ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

কারখানার শ্রমিক হানিফ মিয়া ও খালেদা বেগমের অভিযোগ, তাদের কাউকে কিছু না জানিয়েই জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সুজাউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হঠাৎ কারখানা বন্ধে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কারখানা বন্ধের নোটিসে বলা হয়, ঈদের পর ৮ জুলাই কারখানা খোলার পর কারণে-অকারণে শ্রমিকরা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করে বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ রাখেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক কাজের ‘অর্ডার’ বাতিল হয় এবং কারখানার সুনাম নষ্টসহ আর্থিক ক্ষতি হয়।

নোটিসে আরও বলা হয়, ৩০ অগাস্টে শ্রমিকদের মজুরি ও বেতন প্রদানকালে আবারও তারা কারখানা কর্মকর্তাদের মারধর ও ভাঙচুর করে। এমতাবস্থায় ৩১ অগাস্ট থেকে শ্রম আইন মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানানো হবে।

এ ব্যাপারে সুজাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এখনও মালিক পক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত তাকে জানায়নি। এ ছাড়া আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ব্যাপারে মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা হয়েছে। ২২ অক্টোবর শুনানি ছিল; তিনি আসেননি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। শিগগির মামলার রায় ঘোষণা করবে আদালত।”