জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় দেশসেরা গোপালগঞ্জের নাসির

নাসির ৪টি স্বর্ণ, ৫টি রোপ্য ও একটি ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 August 2022, 09:38 AM
Updated : 14 August 2022, 09:38 AM

শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল স্মৃতি জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মো. আলীমুজ্জামান নাসির।

গত ৫ অগাস্ট থেকে চারদিনের এ প্রতিযোগিতা ঢাকার পুরানা পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে গোপালগঞ্জ স্পোটিং ক্লাব, ঢাকা ক্রীড়া সংস্থা, নরসিংদী ক্রীড়া সংস্থা, বরিশাল ক্রীড়া সংস্থা, নোয়াখালী ক্রীড়া সংস্থা, গাজীপুর ক্রীড়া সংস্থা ও রংপুর ক্রীড়া সংস্থার ৬০ জন প্রতিযোগি অংশ নেন।

৫৯ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেন কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের সাংবাদিক মো. পান্নু শিকদারের ছেলে নাসির।

গোপালগঞ্জ স্পোটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেরা বলেন, “নাসির আমাদের ক্লাবের পক্ষে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল স্মৃতি জাতীয় মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।

“তিনি গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব তথা গোপালগঞ্জ জেলাকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন। গোপালগঞ্জবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এ অর্জন জেলার মার্শাল আর্টে নবজাগরণ সৃষ্টি করবে।”

নাসির গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে ৫৯ প্রতিযোগির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪টি স্বর্ণ, ৫টি রোপ্য ও একটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন বলে জানান নজরুল।

নাসির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন একজন বড় যোদ্ধা হওয়ার। ২০১৪ সালে হেফজ শেষ করে ঢাকায় পড়তে যান। এ সময় মার্শাল আর্টে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছার কথা তার বড় ভাইকে জানান এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মার্শাল আর্ট ক্লাব খুঁজতে থাকেন।

২০১৭ সালের দিকে ঢাকায় মেজবাহ আর্ট একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখানে এস এম মেজবাহ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন শুরু করেন। নাসিরের ভালো প্রতিভা দেখে মেজবাহ তাকে একটি ম্যাচে খেলার সুযোগ করে দেন। তবে নাসির সে ম্যাচটিতে হেরে যান।

এরপর ২০২১ সালের কিশোরগঞ্জের নেহাল পার্কে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় কুংফু প্রতিযোগিতায় দেশের ১৮টি জেলার ৬৫ জন প্রতিযোগিকে পেছনে ফেলে নাসির স্বর্ণপদক অর্জন করেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

গত বছরের মার্চে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় তাইচি কুংফু প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। সেখানে ১৮টি জেলার ২০০ প্রতিযোগিকে পিছনে ফেলে প্রথম হন নাসির; জেতেন স্বর্ণের মেডেল।

এ কৃতিত্বের পেছনে নাসির তার বাবার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাবা সব সময় আমাকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার বড় ভাইও আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আর আমার শিক্ষক মেজবাহ স্যার নিজের ছেলের মতো আমাকে গড়ে তুলেছেন।”

“প্রতিটি মানুষের জন্য মার্শাল আর্ট শেখা জরুরি। শরীরকে সুস্থ রাখা, মনোবল বাড়ানো, আত্মরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।” যোগ করেন তিনি।

কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলী খোকন বলেন, “নাসির আমাদের গোপালগঞ্জ জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে; আমাদের দেশবাসীর কাছে অনেক বড় করেছে। তার কাছে আমাদের এলাকায় একটি ক্লাব করার দাবি আছে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক