Published : 18 Jul 2023, 08:26 PM
কিশোরগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জেলা শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে জমায়েত হতে থাকে।
সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক হয়ে রথখোলা এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি সামনের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
বাধা পেয়ে বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট- পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
পুলিশ লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়।
এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন বলে জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের দাবি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উস্কানিতে লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করেছে। এতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরিফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, সিনিয়র সহ সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুজ্জমামন পার্ণেল, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম আলমগীর, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম নওশাদ, তাঁতী দল হোসেনপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. পারভেজসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
এ ছাড়া মানবজমিন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আশরাফুল ইসলাম ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল আহত হন বলে তারা জানান।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৭৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও একটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
তার দাবি, ওসির গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে; সংঘর্ষে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আটক হননি।
কিশোরগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার জানান, দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা রথখোলা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং আতঙ্কে তারা দোকান-পাট বন্ধ করে দেন।