টাকার দ্বন্দ্বে দাফনে ‘বাধা’, ২৪ ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল উঠানে

নিঃসন্তান এই ব্যক্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান তার স্ত্রী ও স্বজনরা।

গাইবান্ধা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2024, 04:17 PM
Updated : 23 Feb 2024, 04:17 PM

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির দাফনে তার ভাই ও ভাতিজারা বাধা দেওয়ায় লাশ বাড়ির আঙিনায় একদিন পড়ে ছিল।

ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

দুদিন পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে ৭৫ বছর বয়সী মোতাহার আলীর মরদেহ দাফন করা হয় বলে পলাশবাড়ী থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ জানান।

মোতাহার ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী ছিলেন। তার বাবার নাম ছামসুল হক মুন্সি।

প্রায় ১৫ বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়া নিঃসন্তান এই ব্যক্তির দেনা-পাওনা, নগদ ও ব্যাংকের জমা টাকা নিয়ে তার স্ত্রী মাসুমা বেগমের সঙ্গে চাচাত ভাই সেকেন্দার আলী মুন্সি ও ভাতিজা মানিক মুন্সির দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর জেরে তার মরদেহ দাফনে তারা বাধা দিচ্ছিল। এ সময় মোতাহারের লাশ বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল।

পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্ত্রী মাসুমা বেগম ও মারজিয়া নামে ১৫ বছর বয়সী এক পালিত মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় থাকতেন মোতাহার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন সন্ধ্যার দিকে তার স্ত্রী মাসুমা বেগম, পালিত মেয়ে মারজিয়া ও স্ত্রীর বড় ভাই নূরুল ইসলাম কাজী তার লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে আনেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর বলেন, “এ সময় মোতাহারের আপন ও চাচাত ভাইবোন এবং ভাতিজারা লাশ দাফনে বাধা দেন। দেনাপাওনা ও সম্পদ বিক্রির প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে মোতাহারের স্ত্রী মাসুমা বেগমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান তারা।

“শেষে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমঝোতা হয়। মাসুমা মোতাহারের ভাই-ভাতিজাদের ৬০ লাখ টাকার চেক দিলে তার লাশ দাফন করা হয়।”

মৃতের স্ত্রী মাসুমা বেগম বলেন, তার স্বামী ৫৯ শতক জমি কিনেছিলেন। সেই জমি তিনি সম্প্রতি ২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েই তার স্বামীর আপন ও চাচাতো ভাইবোন এবং ভাতিজারা লাশ দাফনে বাধা সৃষ্টি করেন।বিষয়টি এলাকাবাসী একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

“শেষে বৃহস্পতিবার বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর এসে উভয়কে পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬০ লাখ টাকার চেকসহ একটি মুচলেকাপত্র লিখে দেওয়ার পর আমার স্বামীকে দাফন করা হয়।”

গণ্ডগোলের পুরো সময় তার স্বামীর লাশ বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল বলে মাসুমা জানান।

মোতাহারের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, “তারা লাশ নিয়ে আসলেও সঙ্গে চেক নিয়ে আসেনি। পরে ঢাকা থেকে চেক নিয়ে আসতে গিয়ে লাশ দাফনে বিলম্ব হয়েছে।”

টাকা ভাগাভাগির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোতাহারের ভাতিজা মানিক মুন্সি বলেন, “চাচার এলাকায় কিছু ঋণ ছিল। এছাড়া জীবিত থাকাকালীন তিনি এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা করার জন্য কিছু টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

“সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় লাশ দাফনে কিছুটা দেরি হয়েছে।”