কালভার্টসহ সরকারি জমি ভরাটের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তো বটেই খোদ প্রশাসনেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

মাদারীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Nov 2022, 04:24 PM
Updated : 13 Nov 2022, 04:24 PM

মাদারীপুরের ডাসারে কালভার্টের মুখসহ সরকারি জায়গা ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের খান্দলী বাঁশতলা চৌরাস্তা মোড়ে সরকারি জমি ও কালভার্টের মুখ ভরাটের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকায় রাস্তার পাশে নিজের মালিকানা জমি ভরাটের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি জায়গা ও কালভার্টের মুখ (পূর্ব পাশ) বালু দিয়ে ভরাট করে দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তো বটেই খোদ প্রশাসনেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পাথুরিয়া পার থেকে ডাসার পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর একটি রাস্তা তৈরি করে। নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার হাজার হাজার একর কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, আশপাশের বাড়িঘর পর্যন্ত তলিয়ে যেতে থাকে।পানির চাপে রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়।

অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজীবাকাই ইউনিয়নের খান্দলী বাঁশতলা চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। এতে জনগণের দুর্দশা কিছুটা লাগব হয়।

কিন্তু কালভার্টটির মুখ ভরাট করায় পুরোনো দুর্ভোগের দিন ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি গ্রাম ও কয়েকশ একর জমি ফের জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

কিন্তু জমি ভরাটকারী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অন্চিছুক জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “আবুল বাশার সব সময়ই ক্ষমতা দেখান। রাজনীতি করলে জনগণের কথাও ভাবতে হয়। সরকারি জমি ভরাট করার অধিকার তার নেই।

“মাদারীপুরের শকুনি এলাকায় নিজের যতটুকু জমি আছে, এর চেয়ে বেশি জমি তিনি দখল করে স্থাপনার করেছেন।যাদের জমি দখল করেছেন তারা নিরীহ বলে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।” 

রাজিব হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “এক সময় তার কিছুই ছিল না; এখন অনেক হইছে।তার পরও সরকারি জমি আর কালভার্ট দখল করার কোনো প্রয়োজন আছে নাকি? টাকা-সম্পদ মানুষের কত লাগে?”    

আবদুল খালেক নামের অপর একজন বলেন, “সরকারি জমিসহ অবৈধ ড্রেজার দিয়ে জায়গা ভরাট করা হলো। সরকারি প্রকল্পের কালভার্টের মুখ আটকে দিল কেউ দেখলো না? কেউ কী দেখার নাই? প্রশাসন নেতার নাকি জনগণের এবার তার প্রমাণ হবে।”

কাজীবাকাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মিসেস রানু বেগম বলেন, “অবৈধভাবে একজন সুবিধা ভোগ করে শত শত মানুষকে অসুবিধায় ফেলবেন সেটা মেনে নেওয়া যায় না।”

কৃষকদের কথা চিন্তা করে দ্রুত কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কাজীবাকাই ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. গোলাম মাওলা বলেন, “সড়ক ও জনপথের জমি ও কার্লভাটের মুখ ভরাট না করার জন্য আমরা সৈয়দ আবুল বাশারকে মৌখিকভাবে নিষেধ করলে রাতের অন্ধকারে তিনি এসব কাজ করেছেন।যেহেতু সড়ক ও জনপথের জমি তাই এ বিষয়ে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে কালভার্টের মুখ  ও অবৈধভাবে সরকারি সম্পত্তি ভরাট করার এখতিয়ার কারো নেই।”

কালভার্টের মুখ ভরাট করলেও পানি চলাচলের জন্য প্লাস্টিকের পাইপ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আবুল বাশার।

সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি বলেন, “আশপাশের অনেকেই তো সরকারি জমি ভরাট করেছে; পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু দিন পরতো সবই ভরাট হয়ে যাবে।”

তার ভাষ্য, “আমার গোপন শত্রুরা বিষয়টি নিয়ে মেতেছে। প্রশাসন দেখুক, আমি সরকারি জমি ভরাট করছি কিনা। তাদের জমি থাকলে ছেড়ে দিব।

“বিগত দিনে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অনুসরণ করে আমিও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়েছি। তাতে দোষের কিছু নেই, যেহেতু এখানে আমার জমি রয়েছে।”

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইয়াসমিন বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সরকারি জমি ছেড়ে দিতে ও কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জানতে চাইলে মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, “বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক