‘আপনি আমাদের সেক্টর কমান্ডারের ছেলে’, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির জানাজা ও দাফনে বাধা এবং সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের মুক্তিযোদ্ধা আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে (ট্রাফিক পয়েন্ট) সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার তোতা মিয়া বলেন, “আপনি আমাদের সেক্টর কমান্ডারের ছেলে। দেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের থেকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দেশ ছেড়ে দেন।”
তিনি বলেন, “আমরা এখনো জীবিত আছি। আমরা এই বাংলাদেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছ থেকে টিকিয়ে রাখতে পারব।”
তোতা মিয়া বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের রণাঙ্গণের সৈনিক। যারা ২৪-কে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বলে তাদের কাছে জানতে চাই, তারা জাতিকে কোন পতাকা, কোন ভূখণ্ড দিয়েছে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আড়াল করতেই তারা চব্বিশকে সামনে নিয়ে এসেছে।”
জামায়াতে ইসলামির উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটির সংসদের প্রতিনিধিত্ব জাতির জন্য লজ্জার। তাদের উপস্থিতি সংসদকে কলঙ্কিত করেছে। এখন তারা আমাদের স্বাধীন করা দেশে আমাদেরকেই অপমানিত করছে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা, আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অসম্মান। এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই সঙ্গে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সুনামগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ কর্মসূচির করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাজি নূরুল মোমেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনেরা এতে অংশ নেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মুক্তিযোদ্ধারা। মিছিলটি ট্রাফিক পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামলবরণ আচার্য্য, আব্দুল মজিদ, প্রভাত রঞ্জন তালুকদার, শাহ সিরাজ কুতুবী, আব্দুল কাদির, কুমুদ রঞ্জন দাস, সৈয়দ জসীম উদ্দিন, আতাউর রহমান, হারুনুর রশিদ, সফর আলী ও আনোয়ার হোসেন তোতা মিয়াসহ অনেকে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব আলী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের সঙ্গে থেকে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে জামায়াত-শিবিরের রাজাকাররা। আমরা তাদের পরাজিত করে স্বাধীন ভূখণ্ড ও পতাকা পেয়েছি। আমাদের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আড়াই লাখ মা-বোন ধর্ষিত হয়েছেন। কিন্তু আজ সেই পরাজিতরা আমাদের নির্যাতন করছে। আমাদের ভাই মানিক পশারির জানাজা, দাফন ও গার্ড অব অনারে প্রকাশ্যে বাধা দিয়েছে। সারাদেশে তাদের হাতে শেষ বয়সে আমাদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। আমরা তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।
