নাটোর দুর্ঘটনা: কৃষিপণ্য কিনতে বেরিয়ে প্রাণ গেল শরীয়তপুরের ৫ ব্যবসায়ীর
নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকায় ব্যবসার সূত্রে পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল পাঁচজনের। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য সংগ্রহ করতেন তারা।
এবারও ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, ধনিয়াসহ নানা কৃষিপণ্য কেনার উদ্দেশ্যে সোমবার সন্ধ্যায় একসঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলেন রাজশাহীর তাহেরপুরে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তাদের পথচলা।
মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মধ্যে আছেন এই ব্যবসায়ীরাও।
তারা হলেন- জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন বেপারী।
জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকিরও ছিলেন ভুসামাল ব্যবসায়ী। শাহিন বেপারী হলুদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করতেন।
সংসারের চাকা সচল রাখতে পণ্য কিনতে বের হওয়া পাঁচটি মানুষের এমন আকস্মিক বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল পুরো এলাকা জুড়ে।
নিহত জুয়েলের মাদবরের বড় ভাই সোহেল মাদবর বলেন, “আমাদের সংসারের মূল উপার্জনকারীই ছিল জুয়েল। সে ভুট্টার বীজ ও ভুট্টা আনতে রাজশাহী যাচ্ছিল। কিন্তু সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই। কিভাবে সংসার চলবে জানি না।”
জুয়েল ভগ্নিপতি বাদল জমাদ্দার বলেন, “জুয়েলের বাবা-মা বেঁচে নেই। ছোট দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল জুয়েলের সংসার। তাকে হারিয়ে পরিবারটি একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে।”
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক। সৃষ্টিকর্তা তাদের জান্নাতবাসী করুন।
ডুবিসায়বর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হিমেল আহম্মেদ হৃদয় বলেন, নিহত পাঁচজনই আমাদের এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন আমার সম্পর্কে প্রতিবেশী চাচা হয়।
“তিনি চাচা পেঁয়াজের বীজ আনতে গিয়েছিলেন। আর অন্যরা তাদের ব্যবসার কাজে একসঙ্গে রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, নানা মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহতদের মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিষয়টি জানতে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
