রায়গঞ্জে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করেই সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

“জেলা প্রশাসন সঠিক সময়ে জরিপ কার্যক্রম না করায় টাকাগুলো আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করতে পারছি না,” বলছেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Oct 2023, 06:39 PM
Updated : 24 Oct 2023, 06:39 PM

সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন না করেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের হরিপুর মোড় থেকে রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কিছু অংশে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এ পথে আগে থেকে যে সড়ক ছিল তাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ কাজ করতে গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়নি।

রান্ডিলা বাহাদুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক কামরুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সড়কটি কিছু কিছু স্থানে ১৮ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হচ্ছে।

“ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, এক মাস পরে নোটিস পাবেন। ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগে খোঁজ নিলে তারা বলছেন, তাদের কাছে ওই রাস্তা সংক্রান্ত কোনও নথিপত্র নেই। ‘আপনারা আগেই কাজ করতে দিবেন না, নোটিস পেলে কাজ করতে দিয়েন।’ তার পরও জোরপূর্বক ভাবে কাজ চলমান রাখা হয়েছে।”

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখানে সরকারি রেকর্ডকৃত কোনও জায়গা নেই, আমার দুটি জমি থেকে ৩৭০ ফুট লম্বা ও ২০-৩০ ফুট জায়গা নিয়ে তারা রাস্তা বানাচ্ছে। এতে আমার প্রায় ৫-৬ শতক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এখনো অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোন নোটিস পাইনি।”

আরেক কৃষক চাঁন হোসেন বলেন, “রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য আমার তিনটি জমির ২০-২৫ ফুট করে পেঁচিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এতে বেশ কিছু বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, কলার বাগান, জলপাই বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণের টাকা আমাদের কাছে জমা রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

“তারা সঠিক সময়ে জরিপ কার্যক্রম না করায় টাকাগুলো আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করতে পারছি না। উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই জন্য রাস্তা নির্মাণ চলমান রাখা হয়েছে। বাধা দিলে কাজ বন্ধ করে দিতে হবে।”

জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন।