Published : 02 Mar 2024, 12:56 AM
টাঙ্গাইলে লৌহজং নদীর প্রাণ ফেরাতে আবর্জনা পরিষ্কার অভিযান শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের হাউজিং মাঠ এলাকায় নদীর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, “বিডিক্লিনের দুই হাজার সদস্যসহ মোট তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবীর সহায়তায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদীটির প্রায় তিন কিলোমিটার পরিষ্কার করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হবে।
স্থানীয়রা জানান, লৌহজং নদীটির দৈর্ঘ ৭৫ কিলোমিটার। সদর উপজেলার যুগনী থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এক সময় শহরের নিরালা মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা আসত এ নৌবন্দরে। এখন সব যেন রূপকথার গল্প।
দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করায় নদীটি নাব্যতা হারিয়েছে। এই সুযোগে দুই পাড়ের বাসিন্দারা কৌশলে প্রথমে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দখল করে নেয়। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী ভবন, দেয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ ছাড়া কল-কারখানা ও শহরের সব ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলে দূষিত করা হচ্ছে পানি।
নদীটি দূষণ ও দখল মুক্ত করার জন্য ২০১৬ সালে আন্দোলনে নামে স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নদীটি দূষণ ও দখলমুক্ত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন। সে সময় শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূষণ ও দখলমুক্ত করা হয়। কিন্তু চার বছর যাবত কোনো কার্যক্রম না থাকায় নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে।
শহরের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়ার বাসিন্দা আমজাদ হোসোন বলেন, “তিন-চার দশক আগেও এই নদীতে গোসল করা যেত। নদীর পানি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। নদীতে মাছ তো দূরের কথা, পানিতে বসবাসকারী কোনো পোকাও নেই। এর কারণ হচ্ছে, বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ফেলে নদীটি বিভিন্নভাবে দূষণ করা হয়েছে। নদী থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।”
পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হল আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।