১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মায় নাব্য সংকট: নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি চলাচল বন্ধ ৩ দিন, দুর্ভোগ

নদীতে স্রোত থাকায় ড্রেজিং শুরু করতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

পদ্মায় নাব্য সংকট: নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি চলাচল বন্ধ ৩ দিন, দুর্ভোগ

পাবনার নাজিরগঞ্জ এবং রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌপথে সোমবার রাত থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 05:48 PM

Updated : 15 Oct 2026, 05:48 PM

পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি হ্রাস ও তীব্র নাব্য সংকটে পাবনার নাজিরগঞ্জ এবং রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌপথে তিন দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে চলাচলকারী শত শত যাত্রী এবং পরিবহন চালকেরা।

ড্রেজিং শেষ করে নৌপথ সচল না করা পর্যন্ত ফেরি ছাড়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নাজিরগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মোতালেব।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে এ পথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএয়ের প্রকৌশল বিভাগকে নদীতে নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চালকেরা সময় ও জ্বালানি খরচ বাঁচাতে এই পথে যাতায়াত করেন। নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া পথ ব্যবহার করলে সাধারণ দূরত্বের চেয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ কমে যায়।

তবে বারবার ফেরি বন্ধ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত সময় ও বিপুল বাড়তি টাকা খরচ করে দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট থাকা সত্ত্বেও রোববার সকালে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চালানো হয় এবং একই দিন বিকালে সার্ভিসটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় আবারও পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় চরম নাব্যতা সংকট দেখা দেয়।

এর আগে নদীতে তীব্র স্রোতের রাতের কারণে ৫ অক্টোবর থেকে টানা ছয় দিন এবং সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ থেকে টানা ১৬ দিন এই পথে ফেরি পারাপার বন্ধ ছিল। স্বল্প ব্যবধানে এমন অচলাবস্থায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএয়ের কর্মকর্তা গাজী মোতালেব বলেন, হঠাৎ করেই নদীর পানি কমে যাওয়ায় নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ফেরি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ থেকে ড্রেজিং শেষ করে সচল না করা পর্যন্ত ফেরি ছাড়ার সুযোগ নেই।

নাজিরগঞ্জ ঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট খাইরুল ইসলাম খোকন বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ড্রেজিং শুরুর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বার বার এভাবে ফেরি বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ হচ্ছে, তেমনি আমরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছি।

দ্রুত ড্রেজিং শুরু করার আশ্বাস দিয়ে বিআইডব্লিউটিএয়ের ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলী এখলাস উদ্দিন বলেন, ধাওয়াপাড়া ঘাটের কাছে ড্রেজার মেশিন থাকলেও নদীতে স্রোতের কারণে তা যথাস্থানে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।

“আমাদের টিম রুট সার্ভে করছে। আশা করা যাচ্ছে, শুক্রবার থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে”, বলেন তিনি।

উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব কমাতে ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কাছ থেকে এই নৌপথটি অধিগ্রহণ করে বিআইডব্লিউটিসি। এরপর ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামের দুটি ফেরি দিয়ে এ পথে দিনে চারবার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু হয়। কিন্তু টেকসই ও স্থায়ী ড্রেজিং না থাকায় বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি।