মৌলভীবাজার কারাগারে আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে

বিয়ের পর ছেলের মা-বাবা তাদের পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে বাড়ি গেলেও আসামি বরকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 March 2024, 04:39 AM
Updated : 21 March 2024, 04:39 AM

উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে নারী নির্যাতন মামলার এক আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। 

কারাবন্দি বর আশিষ বাউরী মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার ইন্দানগর চা বাগানের সদানন্দ বাউরীর ছেলে। আর কনে কুঞ্জ মাল একই বাগানের মনিষ মালের মেয়ে। 

বুধবার দুপুরে কারাগারের অফিস প্রাঙ্গণে এই বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেল সুপার উপস্থিত ছিলেন।

জেলখানায় বিয়ের এ খবর জানাজানি হলে বিষয়টি চলে আসে স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাওন মজুমদার সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সদানন্দের সঙ্গে কুঞ্জের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু আশিষের পরিবার মেনে না নেওয়ায় তারা বিয়ে পর্যন্ত যেতে পারেননি।

“এর মধ্যে কুঞ্জ গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশিষের পরিবার কুঞ্জকে গর্ভপাত করার জন্য চাপ দেয়। এক পর্যায়ে আশিষও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।”

ওই অবস্থায় ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে কুঞ্জ মাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আদালত আশিষ বাউরীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।

মামলার বাদী কুঞ্জ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলা চলাকালে তিন মাস আগে তার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে আশিষ জামিনের জন্য হাই কোর্টে যায়। 

ওই অবস্থায় দুই পক্ষ আপসের সিদ্ধান্ত নিলে হাই কোর্ট বৈধভাবে বিয়ে সম্পন্ন করে সেই কাগজপত্র দেখিয়ে আশিষকে জামিন নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার দুপুরে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সনাতন ধর্মমতে আশিষ ও কুঞ্জের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর ছেলের মা-বাবা তাদের পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে বাড়ি গেলেও আসামি আশিষ বাউরীকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে।

তার আইজীবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাই কোর্টে বিয়ের প্রমাণ দাখিল করলে আশিষের জামিন মিলবে। তারপর তার মুক্তি পাওয়ার কথা।