Published : 15 Aug 2024, 11:36 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে প্রাধ্যক্ষদের অবস্থানের প্রতিশ্রুতির পরও ১৭টি আবাসিক হলের মধ্যে ১০ হলের প্রাধ্যক্ষরাই পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া এসব হলের ৩১ আবাসিক শিক্ষকও পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, “এই পদত্যাগগুলো গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সময়ে প্রাধ্যক্ষরা করেন। অধিকাংশ পদত্যাগই প্রাধ্যক্ষরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে করেছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে শনিবার এক বৈঠক হয়।
পরদিন রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন একটি যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন।
সেখানে বলা হয়, শনিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আহ্বানে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। সেখানে দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের স্বপদে থেকে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পদত্যাগ করা ১০ প্রাধ্যক্ষ হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারজানা কাইয়ুম কেয়া, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জয়ন্তী রানী বসাক, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসিরুদ্দিন, তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জুয়েলী বিশ্বাস, রহমতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাসনা হেনা, বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা খানম, মন্নুজান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশিদা খাতুন, বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শায়খুল ইসলাম মামুন জিয়াদ, মাদার বখশ্ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রোকনুজ্জামান এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া পদত্যাগ করা ৩১ জন আবাসিক শিক্ষক হলেন- বঙ্গমাতা হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ইসতিয়াক মাহফুজ, অধ্যাপক সুমনা সরকার, অধ্যাপক বেবী বিশ্বাস ও অধ্যাপক মনিকৃষ্ণ মহন্ত; রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র কবিরাজ, অধ্যাপক ফেরদৌস আক্তার, অধ্যাপক রনী রানী, অধ্যাপক মো. মতিকুল ইসলাম ও সোমা দেব; রহমতুন্নেসা হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক মো. আমিরুজ্জামান, শারমিন আখতার, কে এম সাব্বির হাসান; জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষক তপন কুমার বর্মণ, হেমন্ত কুমার ভদ্র, অধ্যাপক মো. আবদুর রশিদ ও ওমর ফারুক।
এ ছাড়া তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক মো. তামজিদ হোসেন মোল্লা, মো. রাকিবুল ইসলাম, রাদিয়া আউয়াল তৃষা ও মো. ওমর ফারুক; বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষক আইরিন চৌধুরী, অধ্যাপক শেখ সেমন্তী ও সঞ্জয় কুমার চক্রবর্ত্তী; মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাহমুদা আকতার, অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন ও অধ্যাপক মো. ইসামঈল হোসেন; শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহা. আশিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক ছালেকুজ্জামান খান ও মো. আরমান হোসেন।
পদত্যাগের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, “সব হলের প্রাধ্যক্ষ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এখনি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন, সেখানে আর কী করতে পারি।”
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “রোববার প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়কসহ অন্যান্য প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে আমাদের এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। আলোচনায় আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের স্বপদে মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তারাও সম্মতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের এমন সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করে যে, তারা দলীয় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তা না হলে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের এভাবে অরক্ষিত করে পদত্যাগ করতে পারতেন না।”
“শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন তারা নিজেরাই নিশ্চিত করবে। সঙ্গে আমরাও কিছু পদক্ষেপ নেব যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।”