চাকরি দেওয়ার নামে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেশকারের বিরুদ্ধে

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে বলে বাদীর আইনজীবী জানান।

নওগাঁ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 05:34 PM
Updated : 21 Sept 2022, 05:34 PM

সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক আইনজীবীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজবাড়ির এক পেশকারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

 আইনজীবী মুক্তা পারভিন ওরফে মুক্তা চৌধুরী গত মঙ্গলবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন বলে বাদীর আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন বাবু জানান।

 আসামি মো. কামাল শেখ (৪২) রাজবাড়ি সদর উপজেলার পারসাদিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে ও রাজবাড়ি জেলা দায়রা জজ আদালতের পেশকার।

আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার লোদীপুর গ্রামের প্রয়াত মোজাহার চৌধুরীর মেয়ে মুক্তা পারভিন। তার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম শুভ রাজশাহীর রাজপাড়া থানাধীন লক্ষ্মিপুর মহল্লার বাসিন্দা। রাজশাহী জেলা দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মুক্তা পারভিন জুডিসিয়ারিতে চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

পেশকার কামাল শেখ বাদীর স্বামী তৌহিদুল ইসলাম শুভর পূর্ব পরিচিত। সেই সূত্রে কামাল শেখ বাদীর রাজশাহীর বাড়িতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তাকে জুডিসিয়ারিতে চান্স পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

কামাল আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে আপনার চাকরি নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী ও তার পরিবার ফাঁদে পা বাড়ায় ও ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর কামাল শেখকে নগদ ১০ লাখ টাকা দেয়। পরে পাঁচ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৪ মে পর্যন্ত চার দফায় এসএ পরিবহন ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আরো পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিপরীতে কামাল শেখ ফাঁকা একটি চেক ও ননজুডিশ্যাল একটি স্ট্যাম্প গ্রহণ করেন। এ অবস্থায় চলতি বছরের ৩০ জুলাই বাংলাদেশ জুডিসিয়ারি সার্ভিসেস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন মুক্তা পারভিন। পরে টাকা, ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করেন কামাল শেখ।

মুক্তার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম শুভ বলেন, সবশেষ গত ১৮ অগাস্ট রাজশাহীর বাসাতে এক বৈঠকে কামাল শেখ টাকা, চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পরে আবার টাকা ফেরত চাইতে গেলে কামাল শেখ আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।

“এ নিয়ে অনেক দেন-দরবার করেও কোনো ফল না হওয়ায় গত মঙ্গলবার আদালতে কামাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আমার স্ত্রী।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন বাবু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ কামাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালত দণ্ডবিধি ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় মামলা আমলে নিয়ে আসামি মো. কামাল শেখের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।

এ ব্যাপারে কামাল শেখের মোবাইল ফোন নম্বরে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক