এইচএসসি: ‘খারাপ ফলাফলে জুলাই আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে’
এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৯৯৫ জন।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের বিপর্যয় হয়েছে।
এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৯৯৫ জন।
গত বছর এ বোর্ডে পাশের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ২২ হাজার ৫১১ জন, উত্তীর্ণ হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৬৪ জন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোসাম্মাৎ আসমা বেগম।
তিনি জানান, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন; এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬ হাজার ৫০৯ জন।
এই বোর্ডের আওতাধীন ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠানে।
পরিসংখ্যান বলছে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০০৪ সালের পর এবারই সবচেয়ে বাজে ফল দেখল বাংলাদেশ।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
সবশেষ এরচেয়ে বাজে ফল হয়েছিল ২০০৪ সালে। সেবার ৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এটাকে ফল বিপর্যয় বলব না। যে ফলাফল হয়েছে এবার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পেয়েছে। সরকারের নির্দেশনা ছিল, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার, আমরা সেটা করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের একটা ধারণা ছিল, পরীক্ষা দিলেই পাস। আমরা কিন্তু সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।
অধ্যাপক মোসাম্মাৎ আসমা বেগম বলেন, “ফলাফল খারাপের পিছনে জুলাই আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা আন্দোলনের মাঠে ছিল। তাদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। আমরা নকলমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া গুণগত মানের জন্য আমাদের শিক্ষকরা সঠিক মূল্যায়ন করেছেন। তারা পাশের সংখ্যা বৃদ্ধি দেখাতে কোনো কিছু করেননি। আর সর্বশেষ হচ্ছে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার কম এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি পড়ার টেবিলে ফিরে আসে তবে তারা আরও ভালো ফল করবে।”
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, “এবার আমরা যশোর বোর্ডে যা করেছিলাম তা হচ্ছে, ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করেছিলাম। আগে প্রতিটা কেন্দ্রের সঙ্গে প্রায় একটা করে ভেন্যু দিয়ে নকলের আড্ডাখানায় পরিণত করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নিজেদের শিক্ষার্থীদের নিজেরাই পরীক্ষা নিয়েছেন। আমরা সেটাকে বন্ধ করেছি। ফলে সে সুবিধা তারা অনৈতিকভাবে নিয়ে আসছিল সেটা আমরা বন্ধ করতে পেরেছি। খাতা মূল্যায়নের ব্যাপারে আমরা বলেছি, সর্বোচ্চ নম্বর দিতে যদি তার প্রাপ্যতা থাকে। আমরা যথাযথ মূল্যায়ন চাই। কোয়ালিটি চাই, কোয়ানটিটি আমরা চাই না।”
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে। এগুলো হচ্ছে- ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৮), খুলনা ফুলতলার মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল (পরীক্ষার্থী ৯৪), খুলনা খালিশপুরের নেভি অ্যাঙ্কোরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী-৫১), যশোরের কেশবপুরের মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয় (পরীক্ষার্থী-৪) ও সাতক্ষীরার আশাশুনির বুধাহাটা মহিলা কলেজ (পরীক্ষার্থী-১)
এদিকে ২০টি মহাবিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার চারটি, যশোরের চারটি, মাগুরার চারটি, সাতক্ষীরার তিনটি এবং নড়াইল, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও বাগেরহাট জেলার একটি করে।
এ শিক্ষা বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে এ বছর সবচেয়ে ভালো ফল করেছে যশোর জেলা।
এ জেলায় পাশের হার ৫৮.২৫ শতাংশ। অন্যান্য জেলার মধ্যে খুলনায় ৫৩.৯৮, বাগেরহাটে ৪১.৮৫, সাতক্ষীরায় ৫২.৬৪, কুষ্টিয়ায় ৪৮.৮৫, চুয়াডাঙ্গায় ৫০.৩৫, মেহেরপুরে ৪৮.৫১, নড়াইলে ৪৬.৪৬, ঝিনাইদহে ৪৫.০৭ ও মাগুরায় ৩৭.৪৬ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছে।
যশোর সরকারি এম এম কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান শুভাশীষ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, বিগত বছরের মধ্যে এ বছরই ফলাফল শোচনীয় পর্যায়ে নেমেছে। বিশেষ করে যশোরের ফলাফল হতাশাজনক। আসলে ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজি, বাংলাকে প্রচণ্ড অবহেলা করে।
তিনি বলেন, “আগে একটা অবস্থা ছিল যে, ২৫ এর উপর নম্বর পেলে বিভিন্নভাবে মার্সি করে ৩৩ দেওয়া যায় কিনা। এখন কিন্তু আমাদের কর্তৃপক্ষ এটা নিষেধ করেছে। সেখানেও পাসের হারটা কমছে। এ শুরুটা ভালো।”
