২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

উপজেলা পরিষদে বরাদ্দ করা কক্ষ নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি এমপির বিতণ্ডা

জামায়াত সংসদ সদস্যের উদ্দেশে বিলকিস ইসলাম বলেন, “এটা সংসদেও উঠাব এবং এমপিগিরি দেখাব। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেব।”

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 12:09 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পরিদর্শন কক্ষ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের সঙ্গে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় জামায়াত সংসদ সদস্যের উদ্দেশে বিলকিস ইসলাম বলেন, “এটা সংসদেও উঠাব এবং এমপিগিরি দেখাব। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেব।”

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহা ফাতেহা তাকলিমা।

তিনি বলেন, “পরিদর্শন কক্ষটি সংসদ সদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি মূলত তাদের এখতিয়ারের বিষয়।”

স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি পরিদর্শন কক্ষ প্রস্তুত করা হয়। এদিন বিকালে সেটির উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 

খবর পেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসন-৭ এর সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে উদ্বোধনের জন্য তৈরি করা নামফলকে শুধু আব্দুল মুনতাকিমের নাম দেখতে পান তিনি। এ সময় তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামফলক নিয়ে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়।

পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউএনও ফারহা ফাতেহা তাকলিমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম এবং এম এ পারভেজ লিটন, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের একটি করে কক্ষ তৈরি করা হয়েছে; যা মূলত তাদের বসার জায়গা। এ ছাড়া অন্য জায়গা থেকে কোনো মন্ত্রী আসলে তারাও সেখানে বসতে পারবেন। 

“আজকে পরিদর্শন কক্ষটি উদ্বোধন করবে সেটি আমি জানতাম না। জামায়াতের এমপি বলেছেন, এটি আজকে উদ্বোধন করব, তবে উনি তো ওনার কথামত উদ্বোধন করতে পারেন না। কারণ এখানে আমি সংরক্ষিত আসনের এমপি আছি। এখানে দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে নীলফামারী চারটি আসন ও অন্য তিন আসন।”

কক্ষটি উদ্বোধনের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্যকে তার সঙ্গে কথা বলতে বলা হলেও তিনি শোনেননি বলে দাবি বিলকিস ইসলামের। 

তিনি বলেন, “পরিদর্শন কক্ষটি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের নামে হতে পারে না। এটি সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য। যেই সংসদ সদস্য আসবে পর্যায়ক্রমে তারাই এই কক্ষ ব্যবহার করবে। জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় থাকা পরিদর্শন কক্ষের নামফলকে কোনো সংসদ সদস্যের নাম নেই। তাহলে সৈয়দপুরে শুধু একজনের নাম কেন থাকবে?

“এ বিষয়ে আমি যখন প্রশ্ন তুলি, তখন এখানে আমাকে কেন অতিথি করা হয়নি? আর ফলকে কেন শুধু একজনের নাম লেখা হয়েছে? এই পরিদর্শন কক্ষ কি শুধু আব্দুল মুনতাকিমের?  তিনি (জামায়াতের এমপি) জবাবে আমাকে বলেন, ‘এটা ৩৫০ জন জাতীয় সংসদ সদস্যের এখানে সবাই আসবেন, কাজ করবেন। কিন্তু এলাকাটা যেহেতু আমার তাই ফলকে আমার নামই থাকবে।

“জবাবে আমি তাকে বললাম, আপনারা একটি আসন দেখেন, কিন্তু আমাদের (সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য) একাধিক আসন দেখতে হয়। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেব। এটা সংসদেও উঠাব এবং এমপিগিরি দেখাব।”

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম মোবাইলে বলেন, পরিদর্শন কক্ষটি সব সংসদ সদস্যের জন্য। তবে এটি যেহেতু তার নির্বাচনি এলাকার উপজেলা পরিষদ, তাই নামফলকে তার নাম রাখা হয়েছে। এ কারণে দলবল নিয়ে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অবতারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

“সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক নির্বাচনি এলাকা নেই। তাই তাদের জন্য পরিদর্শন কক্ষও নির্দিষ্ট নয়। ফলে পরিদর্শন কক্ষ নিয়ে অধিকার দাবি করতে হলে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র বা নীতিমালা অনুযায়ী করতে হবে। এমন কোনো ডকুমেন্টস আছে কি আপনার (বিএনপি এমপি)?”

আরেক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “এ বিষয়ে কী হয়েছে, সেটা সাক্ষাতে বলি। ফোনে আমরা বলব একটা, আপনারা লিখবেন একটা। এ বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাতে কথা হবে।”

বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, পরিদর্শন কক্ষের নামফলকে দুই সংসদ সদস্যের নাম থাকার কথা ছিল। সেখানে শুধু জামায়াতের সংসদ সদস্যের নাম রাখা হয়েছে। এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভুলও হতে পারে। 

তিনি বলেন, “জামায়াতের এমপি বলছেন, নীলফামারী-৪ তার ভৌগোলিক এলাকা। আর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বলছেন, তার দায়িত্বে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ আসন রয়েছে। এ নিয়েই মূলত বিরোধ।”

সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে বসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যেত। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য একদল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে পরিবেশটা উত্তপ্ত করে ফেলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সহজেই সমাধান করা সম্ভব ছিল।”