Published : 08 Feb 2023, 07:48 PM
প্রতিষ্ঠার অর্ধ শতাব্দী পার হলেও রংপুর মেডিকেল কলেজে মৃতদেহের ভিসেরা (অভ্যন্তরীণ অঙ্গ) পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
যেকোনো হাসপাতালে আসা হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও সন্দেহজনক মৃত ব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিসেরা পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শবদেহের ভিসেরা পরীক্ষা করতে হলে নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।
এ কারণে মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে। ভিসেরা রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মামলার তদন্ত কার্যক্রম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অজ্ঞাত মরদেহের রক্তের নমুনা সংগ্রহেও নানা জটিলতায় পড়তে হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রাজিবুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভিসেরা রিপোর্টের জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
“ভিসেরা পরীক্ষার বিষয়টি সিআইডি পুলিশ দেখাশোনা করে এবং তারা শবদেহের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।”
রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে এই মেডিকেলে ময়নাতদন্ত হয়েছে ২১টি মরদেহের। এর মধ্যে ৮-১০টির ভিসেরা পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ভিসেরা পাঠানোর প্রক্রিয়া একটু এদিক-সেদিক হলে রিপোর্টের ফলাফল অন্যরকম হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ভিসেরা রিপোর্ট রাজশাহীতে পাঠানোর পরে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়; যার প্রভাব পড়ে ওই মৃত্যু সংক্রন্ত মামলায়।
রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি জাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, প্রতিটি বিভাগে ভিসারা পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন করা দরকার। তা নাহলে আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, এখন একটা রিপোর্ট আসতে সময় লাগে সাত আট মাস। যার ফলে মামলার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। রির্পোট যত দ্রুত আসবে তত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভিসারা রির্পোটের জন্য আমাদের অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। আগে আমাদের ঢাকায় পাঠাতে হতো। এখন রাজশাহীতে পাঠাতে হয়। তাতে আমাদের অনেক ঝামেলা হয়ে যায়।”
তার ভাষ্য, প্রতিটি বিভাগে ফরেনসিক ল্যাব বসানো হলে মামলার তদন্ত কাজে সংশ্লিষ্টদের এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ভালো হয়; এতে সরকারের অর্থ খরচও কমে যাবে।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ভিসেরা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় নমুনা রাজশাহীতে পাঠাতে হয়। এখানে ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। ভবিষ্যতে হয়তো এখানে ভিসেরা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।